ঢাকা: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান- কাকে দেখতে চান দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে?

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁদের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।

  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপি-এর মহাসচিব। তিনি দলটির অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক।
  • ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপি-এর স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী।
  • ড. আবদুল মঈন খান: বিএনপি-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক পরিকল্পনা ও তথ্যমন্ত্রী।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

কুমিল্লা-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই নেতা দলের দুঃসময়ে নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলেন।

কারাবরণসহ নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দল ছাড়েননি কিংবা দল ভাঙার কোনো উদ্যোগে যুক্ত হননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য শক্তিশালী একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এখন শুধু আলোচনাই।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় থাকা আরেক নাম বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা এই নেতা বিএনপির অন্যতম রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তা এখনো স্পষ্ট নয় রাষ্ট্রপতি আদৌ হচ্ছেন কিনা।

এছাড়া বিএনপির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা ড. আবদুল মঈন খানের নামও বিভিন্ন মহলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তবে এসব আলোচনা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

এর আগে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও এ বিষয়ে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে একাধিক নাম আলোচনায় আসা স্বাভাবিক, তবে এখনো এ বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

যদিও এইসবের মধ্যেও রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে। আবার এও জানা যাচ্ছে বিএনপি’র কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এটির বিরোধিতা করছেন!

দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এই নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগের পর থেকেই চলছে নানা আলোচনা।শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই সবার নজর।

সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ছাড়াও নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

দলীয় সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় নাকি অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—এ নিয়েও আলোচনা একটা আছে।

আপনারা কাকে দেখতে চান রাষ্ট্রপতির পদে?

তবে বিএনপির অধিকাংশ নেতার মতে, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। বর্তমানে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যাকে মনোনয়ন দেবে, তারই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় নেতৃত্ব থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনাই বেশি।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ক্ষমতাসীন বিএনপিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় এলেও দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত চমক হিসেবে নতুন কোনো মুখও আসতে পারে বলে জল্পনা চলছে।

সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, তাঁর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং তিনি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *