ঢাকা: বিশ্বফুটবলে একটি যুগের অবসান ঘটলো। প্রয়াত হয়েছেন কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্রাঙ্কো বারেসি (Franco Baresi)। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

মাত্র ৬৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইতালির ফুটবল অঙ্গনে।

বারেসির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর গভীর শোক প্রকাশ করেছে এসি মিলান।

ক্লাবের এক বিবৃতিতে এই সম্পর্কে বলা হয়েছে, বারেসির বিদায়ে মিলানের ইতিহাস আজ শোকাহত। তাঁর আদর্শ, ব্যক্তিত্ব এবং কিংবদন্তি ৬ নম্বর জার্সি চিরকাল ক্লাবের পরিচয় ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।

কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে ক্লাব এবং বিশ্বের কোটি কোটি রোসোনেরি সমর্থক।

সম্প্রতি ফুসফুসের একটি নোডিউলের অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। দীর্ঘ অসুস্থতার পর চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবশেষে হার মানলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার।

মিলানের হয়ে খেলেছেন ৭১৯টি ম্যাচ। ছ’টি লিগ খেতাব। তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ইতালির জাতীয় দলের হয়ে ৮১টি ম্যাচ। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ জয়। পরিসংখ্যানই বলে দেয় বারেসির বিশালত্ব।

সম্প্রতি মিলান-কোর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মশাল হাতে দেখা যায় তাঁকে।

বারেসির ফুটবল জীবনের শুরুটাও ছিল নাটকীয়। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন ইন্টার মিলানের সমর্থক। কিন্তু শারীরিক গড়ন দুর্বল হওয়ার কারণে ইন্টার তাকে দলে নেয়নি।

অন্যদিকে তাঁনর বড় ভাই বেপ্পে বারেসি যোগ দিয়েছিলেন ইন্টারের একাডেমিতে। ভাগ্যের পরিহাস, যে ক্লাব তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, সেই ক্লাবেরই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানে নিজের কিংবদন্তি ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন তিনি।

তাঁর ছিলো শান্ত স্বভাব। সোনালি চুল আর ক্ষীণদেহী গড়নের জন্য তাঁকে বেশি আমলে নিতো না প্রতিপক্ষ বা অনেকেই।

কিন্তু মাঠে নেমে তাঁর নিখুঁত ট্যাকল, অসাধারণ পজিশনিং এবং খেলার বুদ্ধিমত্তাই প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দিত, তিনি কতটা ভিন্ন মানের ফুটবলার ছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *