ঢাকা: বাংলাদেশ হয়েছে এখন ভেজালের দেশ।

বাংলাদেশে শিশু খাদ্যগুলো ৯৯% ভেজাল, এই সকল খাবার খেয়ে শিশুরা হারাচ্ছে তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

শিশু খাদ্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সম্মত না হলে আগামীর বাংলাদেশ শুধু স্বাস্থ্য বিভাগকে দায়ী, দোষারোপ ছাড়া কিছুই করতে পারবে না।

এই যে ইফতার হয়, সেখানে বাহারি শরবত, রকমারি খাবারে ফুড গ্রেডের নামে ব্যবহার করা হচ্ছে কারখানায় ব্যবহৃত রং।

দীর্ঘদিনের পোড়া তেলে ভাজা হচ্ছে বেগুনি, পিঁয়াজু, চাপ। এসব রাসায়নিক উপাদানে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কিডনি, লিভার, ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

মানুষ এত ভেজাল খেয়ে বাঁচবে কীভাবে?
ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে সকলকে সক্রিয় সচেতন হতে হবে এবং জনগণ ও প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে!

জনগণের করণীয় ঐসব খাদ‍্য বন্ধ করতে হবে! প্রশাসনের কাজ হলো ওদেরকে ধরে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দিতে হবে !

তারপর শক্তহাতে দুর্নীতি দমন করতে হবে!

হয়তো ভেজাল খাদ্য ধরা পড়ে, তারপর মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। তারপর আরামে আবার তারা নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যায়।

এই দেশের মানুষের কি কোনো মূল্য নেই? এইসব খাদ্য খেয়ে জনগণের দূর্ভোগ
দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে!
ভাত তরকারি না খেয়ে ঔষধ খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে তো জায়গাই হচ্ছে না!

রোগ জীবাণু ছড়িয়ে মানুষের শরীরে বিভিন্ন
ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে! এর থেকে জনগণ মুক্তি পেতে চায়!

সুস্থ জীবন ভেজাল মুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে!

এই দুর্নীতি কীভাবে বন্ধ করতে হবে, সেটা সরকারের দায়িত্ব থাকা উচিৎ।

মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের মাধ্যমে হোক অথবা পরিবর্তন না করেই হোক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান দক্ষ জনশক্তির কার্যকর ব্যবহারই সময়ের দাবি।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি জনস্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম প্রধান শর্ত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগ, কিডনি রোগ, স্ট্রোক ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগে মারা যান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি, লবণ, চর্বি এবং ভেজালযুক্ত খাদ্য গ্রহণ এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত গত ১০ মাসে ১ হাজার ৭৫৬টি খাদ্যনমুনা পরীক্ষা করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)।

প্রতিষ্ঠান দু’টির তথ্যমতে, বিভিন্ন পণ্যে পটাশিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট ও সারফেস অ্যাকটিভের মতো রাসায়নিক এবং ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

যার অনেকটিই খাদ্যে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ভেজাল হিসেবে গণ্য।

অনেক খাদ্য জিনিসে অনিয়ম ধরা পড়েছে। আচার, সস, চিপস, মুড়ি, ফলের রস, বাচ্চাদের জুস, চানাচুর, মরিচ-হলুদের গুঁড়া, ঘি, পাউডার দুধ, সরিষার তেল, মাখন, সয়াবিন তেল, ডালডা, মধুসহ নানান পণ্য রয়েছে।

পরীক্ষিত চিপসের ৬৫ শতাংশে অ্যাক্রিলামাইড পাওয়া গেছে। যা ভাজা বা পোড়ানোর ফলে তৈরি হওয়া একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক।

১ হাজার ৭৫৬টি নমুনার ৫৮৬টির (৩৩.৪ শতাংশ) খাবারে ভেজাল বা দূষণ পাওয়া গেছে।

৩৫% ফলে ও ৫০% শাকসবজিতে কীটনাশকের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। চালের ১৩টি নমুনায় অতিমাত্রায় আর্সেনিক এবং পাঁচটিতে ক্রোমিয়াম পাওয়া গেছে।

মুরগি, মাছেও পাওয়া গিয়েছে ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক।

জানা গেছে, রাজধানীর রায়েরবাগ, চকবাজার, মৌলভীবাজার, কেরানীগঞ্জ, ডেমরা এবং গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের প্রচুর কারখানা।

অসাধু ব্যবসায়ীরা এতটাই মুনাফার লোভী হয়ে উঠেছে।

এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য পাইকারি ও খুচরা বাজারের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *