ঢাকা: তিনি আসবেন ডিসেম্বরের মধ্যেই। এর আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। মৃত্যুর খাঁড়া মাথায় নিয়েই তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন! তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

ভারতে আশ্রয় নেয়ার প্রায় দু’বছর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চলেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৫ আগস্ট দক্ষিণ এশিয়ার বিদেশি সংবাদদাতাদের সংগঠন ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (FCC South Asia)-এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।

নিজের ফেরার দিন তারিখ ঘোষণা করতে পারেন খুব সম্ভবত।

অনুষ্ঠানটি ৫ অগাস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে, প্রায় দেড় ঘন্টার অনুষ্ঠান। নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টুলি অডিটোরিয়াম মথুরা রোডে অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে FCC South Asia-র সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

অনুষ্ঠানটি হবে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে।

উল্লেখযোগ্য যে, ভারতে যাবার পর থেকে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

ফলে এই ভার্চুয়াল ভাষণকেই তাঁর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে দেশের একাধিক রাজনীতিক, কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের।তাঁদের মধ্যে থাকতে পারেন শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শাকিব আল হাসান প্রমুখ।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বড়সড় বার্তা শোনা গেলো আরেক নির্বাসিত ব্যক্তির মুখে। তিনি লেখক তসলিমা নাসরিন। বর্তমানে ভারতেই অবস্থান করছেন।

তসলিমার জন্য এক বাংলার দুয়ার খুলেছে প্রায় ১৯ বছর পর। তিনি ফিরতে পেরেছেন পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতায় বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রেস মিটিং করছেন।

তসলিমা নাসরিন কলকাতায় বসেই বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন, এটা তিনি চান। দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকুক।

কলকাতায় অনুষ্ঠানে লেখক তসলিমা নাসরিন শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আওয়ামি লিগকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা উচিত হয়নি। এখন সেই দেশে জামাত ইসলামি বিরোধী দল। এটা ভাবা যায় না। এরা সেখানে থাকলে মৌলবাদ বাড়বে। আওয়ামি লিগের যারা বাইরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বাংলাদেশে ফেরাতে হবে। গণতন্ত্রে এমন অত্যাচার কাম্য নয়।’

অবশ্য এর আগেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলেছেন।

হাসিনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,  ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে চান। আমি জানি না তিনি ফিরতে পারবেন কি না। তবে গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশে ফেরা তাঁর দরকার। তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁর সমালোচনা করেছি। তিনিও অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ করেছিলেন। তবে তারপরও চাই তিনি বাংলাদেশে ফিরুন।’

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তসলিমা বলেন,”যেভাবে আওয়ামি লিগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তা ভুল। এটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নয়। আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করাও সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি চাই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুন।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *