চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের একটি সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস নেই। যানবাহনের ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে, সাধারণ মানুষের মাথায় হাত পড়েছে। কী করবেন তাঁরা?

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়িতে বেশিরভাগ সময়ই চুলা জ্বলছে না। মানুষ একবেলা খায় তো দুইবেলা এমনিই!

এই একই অবস্থা শিল্প-কারখানাগুলোতেও; এর ফলে কমেছে উৎপাদন।

গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমেছে, বেড়ে গিয়েছে লোডশেডিং।

সব মিলিয়ে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের পরিস্থিতি খুবই খারাপ।

জনজীবন, পরিবহন, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সংকটের শুরুতে সরবরাহ হচ্ছিল মাত্র ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকে সরবরাহ আরও কমে গেছে। ফলে আবাসিক ও শিল্প—সব খাতেই তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

গ্যাস বিদ্যুৎ আর তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়েও ম্যানেজ করতে পারছে না বিএনপি সরকার।

শিল্পকারখানায় গ্যাস নেই। সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নেই, বাসাবাড়িতেও অনেক অঞ্চলে গ্যাস নেই। প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা করে লোডশেডিং… বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় অনেক এলাকায় পানি সরবরাহেও ঘাটতি আছে।

মাছ-মাংস, তরিতরকারির দাম ইতিমধ্যে ৫০% বেড়েছে…. ১০০ টাকার নিচে তেমন সবজি নেই। এইসব আর কতদিন সহ্য করবে জনগণ?

শুধু সহ্য করা না, দেশের অর্থনীতি কোন দিকে যাচ্ছে? বিএনপি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না৷ ফলে সবাই সিনেমা বানাচ্ছে।

এছাড়া খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি তো আছেই।রাস্তাঘাটে ছিনতাই, ঘরে ঘরে চুরি ডাকাতি তো আছেই। একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

১ কোটি কর্মসংস্থান হওয়ার কথা সেখানে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে লাখ লাখ মানুষ চাকুরি হারাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে চাকুরি হারিয়ে দেশে ফিরছে হাজার হাজার মানুষ। এস আলমের সব কারখানা বন্ধ হওয়াতে চাকুরি হারিয়েছে ১৩ হাজার কর্মী। কিন্তু এদের জন্য বিকল্প কোন কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা করা হয়নি।

সিএনজি অটোরিকশাচালক নুরুল ইসলাম বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আনা-নেওয়ার কাজ করেন। সংকটের কারণে দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস মিলছে না।

অফিসেরও তাড়া আছে। বাধ্য হয়ে পাম্পের এক কর্মচারীকে ১০০ টাকা দিয়ে লাইন ভেঙে সামনে যাওয়ার সুযোগ মেলে। এতে সিলিন্ডারে গ্যাস নিতে পেরেছেন মাত্র ১২০ টাকার।

রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও, মিরপুর, খিলক্ষেত, যাত্রাবাড়ী, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, রাত থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘরে শিশু আছে, অসুস্থ মানুষ আছে, মানুষ কীভাবে সামলাবে?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *