ঢাকা: দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজের ভালোবাসার শহরে গিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন। সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

১৯ বছর পর কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন। উত্তর দিচ্ছেন এক এক করে প্রশ্নের।

গিয়েছেন কফি হাউসে। সেখানে গিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েন তসলিমা।

মঙ্গলবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার পাটিহাটিতে যান তসলিমা।

সেখানে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে মৌলবাদীদের প্রভাব নিয়ে সরব হন।

তসলিমা বলেন, ‘মুসলিম মৌলবাদীরা ওঁকে (বেগম রোকেয়াকে) কবর দেওয়ারও জায়গা দেয়নি। কারণ উনি নারীবাদী লেখিকা ছিলেন। উনি মৌলবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। নারীশিক্ষার পক্ষে সংগ্রাম করেছেন। সেই জন্য যাঁরা নারীবিদ্বেষী মুসলিম মৌলবাদী, তাঁরা তাঁকে জায়গা দেয়নি কবর দেওয়ার জন্য। রাতের অন্ধকারে এই পানিহাটিতে নিয়ে এসে তাঁকে কবর দেওয়া হয়। তাঁকে সম্মান এবং মুসলিম মৌলবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এখানে এসেছি।’

উল্লেখযোগ্য যে, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, নারী শিক্ষার প্রসারে অগ্রগন্যা “বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন”- এর সমাধিস্হল রয়েছে পানিহাটী বালিকা বিদ্যালয়ে।

সেখানে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পানিহাটীতে যান তসলিমা নাসরিন।

বেগম রোকেয়ার সমাধিতে মাল্যদান করে বেশ খানিকটা সময় কাটালেন পানিহাটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে পড়ুবাদের সাথে।

যে ভালোবাসা একসময় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তসলিমার থেকে, সেই ভালোবাসার শহর ফের বরণ করে নিলো প্রিয় লেখককে।

১৯৩২সালের ৯ই ডিসেম্বর, কলকাতার পার্শ্ববর্তী উত্তর ২৪ পরগনা সোদপুরের, এই মাটিতেই সমাধিস্থ হয়েছিলেন মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *