নেত্রকোনা: এর আগে একবার মা বাবার খোঁজ না নেওয়া, স্ত্রীকে অস্বীকার করে চরম সমালোচিত হলেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটার রিপন মিয়া।

পরে এইসব আবার মিটমাট করে ফেলেন। এখন আবার অন্য মেয়ে নিয়ে ধরা পড়া। ধর্ষক হাজির।

এবার নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে, থানায় না গিয়ে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে সালিসের মাধ্যমে এতবড় বিষয়টি নাকি সুরাহা করে ফেলা হয়েছে।

তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সালিসের অনেক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করছেন। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’—এসব সংলাপের ভিডিও দিয়ে তিনি পরিচিতি পান।

এইসব আর কী পরিচিতি? সমাজের কীট এরা।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাত আটটার দিকে তাদের বাড়িতে যান রিপন। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন।

এই সুযোগ নিয়ে ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে রিপন। মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রিপন পালিয়ে যায়।

পরিবারটির দাবি, ভিডিও বানানোর কথা বলে রিপন আগে থেকেই কিশোরীকে ভীষণ উত্ত্যক্ত করতো। তবে যেহেতু মেয়ের মা বাবা, লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেনি।

পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিস বসে।

সালিসে এক ব্যক্তি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে ওই বৈঠক হয়। সেখানে স্থানীয় বিএনপি–জামায়াতের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। তাঁকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‘ভুল করলেও করছি, না করলেও করছি। আমি, আফনেরার লগে থাহন লাগবো…! ভুল তো মানুষ করেই, আমি একটা ভুল কইরাইলছি।’ রিপন বলে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *