ঢাকা: ৩১ জুলাই তারিখে দীর্ঘ ১৯ বছর পর ভারতের কলকাতায় পা রেখেছিলেন লেখক তসলিমা নাসরিন। এবং ১ আগস্ট থেকেই তাঁর কর্মসূচি চলেছে।

জীবনের স্মরণীয় সফর শেষ করে আজ, বুধবার তথা ৫ আগস্ট কলকাতা ছাড়লেন তিনি।

শহর ছাড়ার আগে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে তিনি জানান, এই শহরের স্মৃতি তিনি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন এবং ডাকলে তিনি আবারও কলকাতায় যাবেন।

অবশ্য এর আগে তিনি জানিয়েছেন যে কলকাতার বইমেলায় যাবেন।

এদিন, আবারো নিজের জন্মভূমিতে ফেরা নিয়ে তাঁর কণ্ঠে ঝরে পড়েছে গভীর আক্ষেপ।

হতাশার সুরে তসলিমা জানান, তিনি অবশ্যই নিজের দেশে ফিরতে চান। কিন্তু দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে তিনি নির্বাসনে রয়েছেন এবং তাঁকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

বাংলাদেশের সরকার তাঁর পাসপোর্ট পুননবীকরণ বা রিনিউ করছে না। এমনকি তাঁর বর্তমান সুইডিশ পাসপোর্টেও বাংলাদেশ সরকার ভিসা দিতে রাজি নয়। ফলে শত ইচ্ছা সত্ত্বেও জন্মভূমির মাটি ছোঁয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কলকাতায় গিয়ে নিজের জন্মভূমির রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও বেশ কিছু কথা তিনি বলেছেন।

গতকাল পানিহাটিতে বেগম রোকেয়ার স্মৃতিসৌধের মাল্যদানের পর ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখক তসলিমা নাসরিন বলেন, “শেখ হাসিনার দলকে বাংলাদেশ সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হোক। হাসিনাকে দেশে ফিরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি চাই, তাঁকে ফিরে যেতে দেওয়া হোক। তিনি দেশে ফিরে যান। তাঁকে রাজনীতি করতে দেওয়া হোক।”

বলেন, “সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতি করতে দেওয়া হোক। আমি ধর্মীয় রাজনীতির বিপক্ষে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি সবসময় নারীবিদ্বেষী রাজনীতি। গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দল থাকবে। বিরোধী দলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। হাসিনা দেশে ফিরে যান। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *