ঢাকা: কত সহজে কথাগুলো বলে দেয়া হয়- বোমা হামলার আশঙ্কায় দেশের সবকটি জেলা ও রেঞ্জে সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করেছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

অথচ এর শেকড় এত গভীরে কবে, কীভাবে প্রোথিত হলো? এর তদন্ত নেই। জনজীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে দেশে।

জঙ্গী হামলা, বোমা হামলা-এগুলো তো ঘটেই চলেছে ইদানীং। বিভিন্ন জনবহুল জায়গাগুলোতে বোম রাখা হচ্ছে। সনাতনীদের মেরে ফেলার জন্য রথযাত্রায় ছাতার ভিতরে বোম রাখা হয়।

এছাড়াও জঙ্গী হামলা ঘটছে। ২৪ এর ৫ আগস্টের পর কোথাও মানুষ শান্তিতে আছে?

বিষয়টি তো এমন নয় যে, মুদি দোকান থেকে একটি বোমা কিনে এনে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিলো ব্যস, কাজ শেষ।

একটি বোমা হামলা তো তাৎক্ষণিক বিষয় না। এলার্ট জারি করে কী করবে? সাময়িক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ।

অথচ এইসব হামলার পেছনে থাকে বিশাল একটি নেটওয়ার্ক, পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন ও লজিস্টিক সাপোর্ট। সেগুলোর খোঁজ কেন করছে না বিএনপি সরকার? কারণ ভয়ে?

যারা বিএনপি সরকারের সেই আগের সময়টি নিজের চোখে দেখেছেন, তারা জানেন তখন প্রায়ই বোমা হামলা, নাশকতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটত। পরিস্থিতি ভীষণ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিলো।

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার ঘটনাও তো সবার জানা। এত বড় অস্ত্র চালান কোনো ব্যক্তি একা আনতে পারে না। পেছনে শক্ত হাত, রাজনৈতিক হাত না থাকলে সম্ভব না।

এই অস্ত্রের গন্তব্য ছিল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো। এটাও সারা বিশ্ব জানে। তারপরেও কিন্তু দেখুন বিএনপি কোমর সোজা করতে পারেনি। এতটুকু তাদের ভালো আত্মবিশ্বাস আসেনি। এখন দেশ চালাচ্ছে। তারপরেও মনে হয় পুতুল নাচছে। নাচানে ওয়ালা আছে পেছনে।

২০২৪ সালে কারাগার ভেঙে যেসব জঙ্গি সদস্য মুক্ত হয়েছিল, তাদের বিষয়ে পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? তাদের কি ধরা হয়েছে?

অনেক সাধারণ অপরাধী পরে আবার গ্রেপ্তার হয়েছে বা আত্মসমর্পণ করেছে। কিন্তু জঙ্গি সদস্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের তৎপরতা চোখে পড়েনি ।

শেখ হাসিনা সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া বহু দুর্ধর্ষ জঙ্গি সদস্য তখন মুক্ত হয়ে যায়। তাদের মুক্ত করে দেয়া হয় ফিল্মি কায়দায়।

কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ উদ্ধার হলেও বাকি অস্ত্র? আসলে এই কয়েকদিনে দেশ আরো বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

জানা গিয়েছে, গোপন সংবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে দেশের প্রতিটি এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, সারা দেশে বোমা হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি জেলায় রাতের বেলা টহল, মোবাইল ডিউটি এবং চেকপোস্টে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

দায়িত্ব পালনকালে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা সন্দেহজনক ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছে সদর দপ্তর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *