ঢাকা: কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
সাংবাদিক আনিস আলমগীর বিষয়টি নিয়ে জমজমাটি একটি লেখা লিখেছেন ফেসবুকের:
“রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বীর বিক্রম কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে জামাত জোটের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াটা ট্র্যাজিকমেডি থ্রিলার, যার ক্লাইম্যাক্স সবাই শুরু থেকেই জানে।
অঙ্কের খাতায় জিরো, কিন্তু স্বপ্নে হিরো- রাজনীতিতে এই আত্মবিশ্বাসটাই আসল। জেতার মতো সমর্থন না থাকলেও প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নাম লিখিয়ে অন্তত আলোচনায় থাকা যায়, সেটাই যেন লক্ষ্য।
কর্নেল অলি বিগত সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হননি। জামাত বোধ হয় তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জোট জিতলে তিনি হবেন রাষ্ট্রপতি।
মজার ব্যাপার হলো, একদিকে জামাতের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক পরিচয়, আর অন্যদিকে তাদের প্রার্থীর বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধার ইমেজ- এই বৈপরীত্যটাই পুরো দৃশ্যকে আরও আইরনিক করে তোলে।
শেষ পর্যন্ত জেতা না জেতা বড় কথা না- ফ্রেমে থাকা, আলোচনায় থাকা, আর ভবিষ্যতে সিভিতে “রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ছিলাম” লিখতে পারাটাই যেন আসল অর্জন!
গণতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য অলি আহমেদকে স্বাগতম।
Participation is power- even without victory”.
অলিকে এই পদে মনোনয়ন দেওয়ার কারণ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দেশের কল্যাণের জন্য আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিটাকে দেশের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি।
আপনারা দোয়া করবেন, আমাদের প্রত্যেকটি কাজ যেন জাতির জন্য হয়, জাতির কল্যাণের জন্য হয়। আমরা এ ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ কোনো আপস করব না। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।’
উল্লেখযোগ্য যে, রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে কর্নেল অলির নাম ঘোষণা করার পর তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের জন্য দায়িত্ব হিসেবে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মনে করি, সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি এবং সুস্বাস্থ্য ফিরে আসবে।’
