ঢাকা: ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করতে পারেনি।
শূন্য পাশ করা এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
এই ভয়াবহ চিত্র দেশের বর্তমান শিক্ষা অবস্থার দিকে আঙুল তুলছে।
আজ (সোমবার, ১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ফল হস্তান্তর করেন।
এসএসসিতে পাশের হার মাত্র ৬২ শতাংশ যা গত ১৯ বছরের ভিতর সর্বনিম্ন। প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য এবং ৩১২ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ। ভাবা যায়?
শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে তাদের রাস্তায় নামিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে ওরা এখন ক্ষমতায়, ওরা এখন সংসদে কথা বলে। আর এখন শিক্ষার্থীদেরকেই বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।
৩১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বিগ জিরো’- এটা কি একটা ভাবার মতো বিষয়?
পরীক্ষা দিয়েও পাস করেনি একজন শিক্ষার্থীও! অভাবনীয় ও উদ্বেগজনক চিত্র অবশ্যই চিন্তার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
এর মধ্যে ৩১২টি স্কুল ও মাদ্রাসার শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
শূন্য পাস করা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি স্কুল, মাদ্রাসা বোর্ডের ২২৬টি মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, বরিশাল বোর্ডের অধীনে থাকা প্রত্যন্ত গ্রামের “কাছিবাবুনিয়া আসমত আলী দাখিল মাদ্রাসা” সহ দেশের বিভিন্ন জেলার বেশ কিছু নন-এমপিও ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই তালিকায় আছে।
গত বছর এই শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি, যা এবার একলাফে বেড়ে ৩১২টিতে দাঁড়িয়েছে।এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২.২৫%।
৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, আর ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের এই গণহারে ফেলের ঘটনায় ক্ষোভ এবং হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, এই বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১২টি।
ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন।
রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন।
যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬.২৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন।
কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন।
চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন।
বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০.৩৫ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন।
সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮.০৫ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন।
ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭.৩৯ শতাংশ, জিপএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন।
এর আগে গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬. ২ শতাংশ।
এবং জিপিএ-৫ কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
