ঢাকা: দুই প্রতিবেশী বাংলাদেশ ভারতের সাধারণ মানুষ সবসময় চায় সম্পর্ক সুন্দর থাকুক। কারণ কথাতেই আছে, প্রতিবেশী বদলানো যায় না। আর এখানে প্রতিবেশী বদলানোর উদাহরণ দেয়াটাও বোকামি। কারণ ভারত বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে পাশে। দেশের জন্মটাই হয়েছে ভিতরের হাত ধরে, ভারতের সহযোগিতায়।

দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ফের মসৃণ হবে? তার অপেক্ষায় দু’দেশের কূটনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।

সেই আশার আলোই জ্বলল এদিন সোমবার। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সচিবালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

দুজন পরস্পরের হাতে হাত রেখে হাসিমুখে কথা বলেছেন।

দীনেশ ত্রিবেদী সজ্জন, ভদ্র ব্যক্তি। আলোচনার মাধ্যমে ঢাকা-নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মসৃণ করার লক্ষ্য নিয়েই ত্রিবেদীর এই সাক্ষাৎ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

এবং সেটা সফল হয়েছে বলাই যায়।

আগামি দিনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দীনেশ ত্রিবেদী। যথেষ্ট ইতিবাচক তিনি। এবং আজ দেশের আবহাওয়া অন্যরকম।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে ত্রিবেদী এই কথা বলেন।

খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের আমন্ত্রণ তো আগে থেকেই আছে। গতবারও আমি বলেছিলাম, ভারতের জনগণ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী সামনে তাকাতে চান। আমরা ইতিবাচক।’

‘দুজন নেতা একসঙ্গে বসলে, আলোচনা হলে…গণতন্ত্রে ইস্যু (সমস্যা) থাকবে, ইস্যু না থাকলে ওটা গণতন্ত্র না। আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে, কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে, ভালো সম্পর্ক।’

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি সব সময় বলি যে, আমরা কেবল বর্ডার শেয়ার করি না, আমরা স্বপ্ন শেয়ার করি। আমরা তো স্বপ্ন শেয়ার করি, তাই তো?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, আগামী দিন ভালোই হবে। সমস্যাগুলোর সমাধান করতেই হবে, দুই দিক থেকে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী।’

বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘সমস্যা না থাকলে তো গণতন্ত্র থাকবে না! আমি যখন বাড়ি যাই, বাড়িতেও ইস্যু থাকে। কোনো ইস্যু এমন না, যেটা আমরা সমাধান করতে পারি না। এটা আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি। কোনো ইস্যু নাই যা আমরা বসে সেটেল করতে পারি না। আর আমাদের মধ্যে উইন-উইন সিচুয়েশন। দুই দেশের সাধারণ মানুষ কী চায়? ভারতের সাধারণ মানুষ, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একই জিনিস চায়—সম্পর্ক ভালো হোক। এটা স্বাভাবিক।’

‘আর আমার এখানে আসা…আমার প্রধানমন্ত্রীও (নরেন্দ্র মোদি) আমাকে সব সময় এটা বলেছেন যে, সম্পর্ক ভালো থাকা বিশেষ দরকার’।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, আমরা পাবলিক ফিগার হিসেবে দেখা করলাম। আমি ডিপ্লোম্যাট নই। এটা ছিল জনপ্রতিনিধির সঙ্গে জনপ্রতিনিধির সাক্ষাৎ। আমি খুবই আনন্দিত, আমার সঙ্গে দেখা হলো। মনে হয়নি যে, প্রথমবার আমি ওনার সঙ্গে দেখা করছি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *