ঢাকা: হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগছে মনে! কী ঘটছে আদতে? একদিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে,‌আরেকদিকে জামাত, এনসিপিকে আচ্ছামতো ক্যালিয়ে ঢোকানো হচ্ছে গারদে! হচ্ছেটা কী দেশে? হাওয়া কোনদিকে বইছে বুঝতে পারছেন তো?

রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। এই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

খবরটা পেয়ে জনগণ বলছে, ঘটছে একটা কিছু। এবং ঘটবে ডিসেম্বরের আগেই। হাওয়ার গতিবেগ বাড়ছে।

নাহলে জামিন কাহারে কয় এটাই তো ভুলে গিয়েছিলো জনগণ? জামিন আবার শোন এরেস্ট এই নাটক তো চলছিলো।

হাজার হাজার ভুয়া মামলায় মাসের পর মাস ধরে বর্ষীয়ান নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিক, লেখক, সাংবাদিক, পেশাজীবীরা, নানান বয়সী নারী পুরুষ শিশুদের জেলে পচে মরাই নিয়তি এই দেশে। তাদের জামিন দেয়া হচ্ছেনা।

৫ আগস্টের পর এটাই বাস্তব চিত্র দেশের।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একটি মামলায় জামিনের ব্যবস্থা করা গেলেও মুক্তি মিলছেনা। নতুন মামলা সাজিয়ে শোন এরেস্ট দেখানো হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি হয়তো বদলাচ্ছে, মানুষ আশার আলো দেখছে।

ফিরে আসি খায়রুল হকের বিষয়ে:

আজ, সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।

এর আগে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় তাঁর জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর বনানী থানার মামলায় তাঁকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল।

ফলে বনানীর মামলাটিই তাঁর কারামুক্তির ক্ষেত্রে সর্বশেষ আইনি বাধা হয়েছিল।
গত ৩০ জুন খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন একই হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে এগিয়ে গেলে তাদের ওপর গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন খোয়াইব।

পরে স্থানীয়রা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।

এরকম হাজার হাজার মিথ্যা মামলা রয়েছে। পুলিশ খোঁজ করছে। কখনো বাদীই মিথ্যা বেরোচ্ছে। কখনো আবার মৃতই প্রবাসে কাজ করছে। সেখানে থেকে জানাচ্ছেন তিনি জীবিত, কাজ করছেন। এই হচ্ছে ঝুলাই।

যাই হোক, এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁকে একে একে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *