পিরোজপুর: এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল হতাশাজনক। বলতে বাধ্য হচ্ছি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক দুইয়ের অবস্থাই আজ ভীষণ শোচনীয়। কোথাও যদি শিক্ষার্থী পড়তে চায়, শিক্ষক পড়াতে চান না। আবার কোথাও শিক্ষক পড়াতে চাইলে শিক্ষার্থী থাকে রাজপথে। এইভাবে কি পড়ালেখা হয়?
সত্যিই হতাশ হলাম। একটি সমাজের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্মের উপর। যখন পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যায় এবং সময়ের বড় একটি অংশ অপ্রয়োজনীয় বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিভিন্ন নেতিবাচক কাজে ব্যয় হয়, তখন এর প্রভাব ফলাফলে পড়াটাই স্বাভাবিক।
আজকের এই ফলাফল আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি বা সমাজ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। অথচ আজ এই বাংলাদেশে এক একজন ছাত্রের কথা শুনলে মনে হয় ওদের মধ্যে শিক্ষার সঠিক আলোটা পৌঁছাতে পারেনি।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। আজ্ঞে হ্যাঁ, মাত্র একজন।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং শিক্ষকসংখ্যার এমন চিত্রের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—এত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন কেন পাস করলেন? বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ১১ জন পরীক্ষার্থী মাত্র, তারাও পাশ করতে পারলো না? কেন?
গত বছরও বিদ্যালয়টির ফলাফল ছিল প্রায় একই। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আটজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন মাত্র একজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে পাঁচ-ছয়জনের বেশি নয়।
সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক, একজন ক্লার্ক ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আছেন। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৩ জন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারকে প্রতি মাসে তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়।
অথচ রেজাল্টের এই হাল। পড়াশোনাই তো হয় না, রেজাল্ট কোথা থেকে হবে?
এদিকে, আরো এক ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, চলতি বছর ১১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে। গত বছর আটজন পরীক্ষা দিয়ে একজন পাস করেছিল।
পাস করা শিক্ষার্থীর নাম এবং ফলাফল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।’
ওমা! এ কী!? চিন্তা করা যায়? ওঁরা তো ছাত্রই চেনে না! হায় হায়!
১১ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফলাফলে তিনি দুঃখিত কি না জানতে চাইলে পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’
