ঢাকা: দেশের ইতিহাসে লোডশেডিংয়ের নতুন ভয়াবহ রেকর্ড হয়েছে। এরকম লোডশেডিং এর আগে মানুষ কবে দেখেছে?
গ্রামাঞ্চলে তো লোডশেডিং অসহনীয় আকার ধারণ করেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১টায় দেশে রেকর্ড ৩৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। এছাড়া রাত ২টায় লোডশেডিং ছিল ৩৭৫১ মেগাওয়াট।
পরের কয়েক ঘণ্টাও লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার মেগাওয়াটের বেশি।
এর আগে ৯ আগস্ট বেলা ৩টায় ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনো এত ভয়াবহ লোডশেডিং এর ঘটনা ঘটেনি।
সম্প্রতি দেশের অনেক এলাকায় দিনে-রাতে মোট ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ।
২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান LNG টার্মিনাল বিকল হওয়ার পর থেকেই সংকট তীব্র হয়।
টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু হলেও গ্যাস সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৫,০০০ মেগাওয়াট থেকে সাড়ে ৩,০০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।
দেশের বিদ্যুৎ সংকট এখন শুধু লোডশেডিং নয়, এটি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার গভীর সংকটে পরিণত হয়েছে। একইভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের ভয়াবহ ব্যর্থতাও এটি।
মানুষ লোডশেডিংএ দিশেহারা। কোথায় যাবে, কী করবে- পাগলের মতো ঘুরে বেড়ায় রাস্তায়, মাঠেঘাটে রাতে লোকজন। একটু যদি বাতাস পায়, আশা করে এই বুঝি কারেন্ট এলো।
গ্রামেগঞ্জে, শহরেও ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। ১ ঘণ্টা পরপর দুই ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে!
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৮/৯ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে-বাইরে কোথাও শান্তি নেই। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট বাড়ছে, এবং বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসাগুলো শেষ।
এভাবে আর কতদিন?
দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরবাড়ির স্বাভাবিক জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর-আলীপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের জন্য দেখা দিয়েছে তীব্র বরফ সংকট।
প্রতিনিয়ত ১২/ ১৪ ঘন্টা লোডশেডিংয়েল ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে বরফের দাম।
দেখা গেছে ১৫০ টাকার বরফের ক্যান বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। তারপরও পাওয়া যাচ্ছেনা বরফ। এই বরফ সংকটে মাছ শিকারে যেতে পারছেনা শত শত মাছধরা ট্রলার।
ইলিশের ভরা মৌসুম, কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে বরফের অভাবে সাগরে যেতে না পারায় ক্ষুব্ধ জেলেরা।
জেলে শুকুর আলি বলেন,আগে বিদ্যুৎ এমন ছিলনা, আগেই ভালো ছিলাম, এখন বিদ্যুৎ প্রায়ই থাকেনা,বরফও তৈরি হচ্ছে কম । তার ওপর দ্বিগুণ দামে বরফ বিক্রি করছেন বরফ কল মালিকরা।
ট্রলার মালিকেরা বলছেন, ‘এক দিকে সাগরে মাছ পড়ে কম, সংসার এর প্রয়োজনে সাগরে যাবো তাও বরফের অভাবে যেতে পারছিনা। জেলেরা ঘাটে বসে বসে খাচ্ছে।সঠিকভাবে বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানাই’।
