ঢাকা: বাংলাদেশে সফরে ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’-এর (র) প্রধান পরাগ জৈন। ইয়েস পরাগ জৈন!

জৈনের চেহারাটা হয়তো তেমন পরিচিত নয়। কিন্তু কাজে পরিচিত।

পরাগ জৈন বাংলাদেশ সফরে, আলোচনা, বৈঠক- এদিকে ঘুম উড়ে গিয়েছে ইসলামাবাদের। কারণ আছে!

কে এই পরাগ জৈন?

পাঞ্জাব ক্যাডারের আইপিএস পরাগ জৈন। ক্যারিয়রের শুরুর দিকে পাঞ্জাবের ভাটিন্ডা, হোশিয়ারপুর, মানসা এলাকায় পোস্টিং ছিল এই আইপিএস অফিসারের।

খালিস্তানপন্থী সন্ত্রাসের মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। পরবর্তীকালে লুধিয়ানার ডিআইজি থাকাকালীন পাঞ্জাবে মাদক পাচার চক্র দমনে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আগেই বললাম তিনি কাজে পরিচিত।

জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল এবং অপারেশন বালাকোটের সময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তথ্য জোগাড়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এবং অপারেশন সিঁদুরে ছিলো পরাগ জৈনের বড় ভূমিকা। পাকিস্তান বিশেষজ্ঞ তিনি। নখদর্পণে রাখেন ঐ দেশটাকে।

অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন তিনি ছিলেন ‘অ্যাভিয়েশন রিসার্চ সেন্টার’-এর প্রধান পদে।

যাই হোক, এবার বাংলাদেশের রাজনীতির হাওয়া অন্যদিকে বইছে।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন জানিয়ে দিয়েছেন। এই চাপানউতরের মধ্যে তাঁর এই ঢাকা সফর নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

পরাগের নেতৃত্বে চার সদস্যের দল ঢাকায় আসেন।

রবিবার সন্ধ্যায় চার সদস্যের দল ঢাকায় নামে। বাংলাদেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টালিজেন্সের (ডিজিএফআই) আমন্ত্রণেই পরাগদের এই ঢাকা সফর।

এবং ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (RAW)-এর প্রধান পরাগ জৈন।

সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ডঃ এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

আর এই একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। চারদিকে পরিস্থিতি বেশ গম্ভীর বলেই মনে হচ্ছে। আমরা অনেক খবর পাচ্ছি ইতিমধ্যে।

উক্ত প্রতিনিধিদলে RAW প্রধান ছাড়াও ছিলেন অশ্বিন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবল রায় চৌধুরী।

তাঁদের সফর বিষয়ে আগেভাগে কোনোকিছু জানানো হয়নি। তবে এটাও গুরুত্বপূর্ণ না যে জানাতেই হবে।

সফর চলাকালীন দেশের একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও ভারতীয় প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সফর শেষে প্রতিনিধিদলটি নয়াদিল্লিতে ফিরে যায়।

শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে কি না, তা সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *