গোপালগঞ্জ: কি ভয়াবহ লোডশেডিং..! মানুষ বলছে, “আমার এই ছোট্ট জীবনে এইরকম ভয়াবহ লোডশেডিং আগে কখনোই দেখিনি। যাদের সোলার বা চার্জার ফ্যান আছে তারা মোটামুটি একটা জায়গায় আছে। কিন্তু সেই সংখ্যাটা খুবই নগণ্য। গ্রামে ছোট ছোট বাচ্চাদের জীবন একেবারে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে”।

এত ঘন ঘন লোডশেডিং! ঢাকার নবাবগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাংচুর হয় ।

গোপালগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং, হামলার আশঙ্কায় এবার নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে ওজোপাডিকোর চিঠি পাঠিয়েছে ।

গোপালগঞ্জ যেন এখন লোডশেডিংয়ের শহরে পরিণত হয়েছে। দিনে কিংবা রাতে সমানতালে চলছে তীব্র লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই চলছে লোডশেডিং।

ফলে প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) গ্রাহকেরা।

লোডশেডিংয়ের এই পরিস্থিতিতে গোপালগঞ্জ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কার্যালয়ে ও উপকেন্দ্রে সাধারণ গ্রাহকদের হামলার আশঙ্কা করছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।

আর এমন পরিস্থিতিতে ওজোপাডিকো দপ্তরে যেকোনো প্রকার হামলা হতে পারে। জনগণ ক্ষুব্ধ । সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।

এই হচ্ছে দেশের অবস্থা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই আবেদন জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়া এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ার কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ শহরে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ এখন আতঙ্কে আছে। আশঙ্কা করছে, ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা দপ্তর, উপকেন্দ্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালাতে পারেন।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অফিস ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল এবং নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে নয়টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে আমরা প্রায় ৯ মেগাওয়াট সরবরাহ পাচ্ছি। রাতে চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হয়, তখন সরবরাহ পাওয়া যায় ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলায় এবং হাসপাতালের রোগীদের কথা বিবেচনা করে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

ওজোপাডিকোর এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি না। জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তা-ই বিতরণ করা হয়। গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছি। তাই দপ্তর, উপকেন্দ্রসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *