ঢাকা: দীর্ঘ ১০৫ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটলো। কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও অবমুক্ত পোনা মাছের সুষম বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেওয়া টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাশয় কাপ্তাই হ্রদে আবারও শুরু হয়েছে মাছ আহরণ।
কর্মব্যস্ত মানুষ কর্মহীন থাকতে ভালোবাসেন না। অবশেষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন রাঙ্গামাটির হাজারো জেলে।
শুরু হয়েছে মাছ আহরণ। ভোর হতেই মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও আড়তগুলোতে শুরু হয়েছে জেলে, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা।
দেখা গেলো, দীর্ঘ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এবার হ্রদে প্রচুর কাচকি, চাপিলাসহ বিভিন্ন দেশি ছোট মাছ ধরা পড়ছে। এবং পাশাপাশি বড় আকারের কাতলা, কালবাউশ ও আইড় আছে।
হ্রদের মাছের উপর নির্ভর ২৬ হাজার জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক কর্ম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলে পাড়াগুলোতে নৌকা মেরামত হচ্ছে, অনেকের হয়ে গেছে। জাল বোনা ও পুরনো জাল সংস্কারের কাজ। কোথাও নৌকায় রং করা হচ্ছে, কোথাও নতুন জাল তৈরির কাজ চলছে।
পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও এসব কাজে সহযোগিতা করছেন। দীর্ঘদিনের আয়-রোজগারহীনতা, ঋণ ও অভাব-অনটনের পর মাছ আহরণ শুরুর খবরে জেলে পল্লীগুলোতে ফিরেছে স্বস্তি ও কর্মচাঞ্চল্য।
এক জেলে বলেন, মাছ আহরণ শুরুর ঘোষণার পর জেলেদের মধ্যে নতুন করে স্বস্তি ফিরেছে। কারণ, হ্রদে মাছ ধরা শুরু হলে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পাশাপাশি পুরনো ঋণ পরিশোধের সুযোগও তৈরি হবে।
