ঢাকা: বাংলাদেশে কয়দিন আগেও বা পরশুও আমরা বলেছি কারেন্ট যায় না মাঝে মাঝে আসে। তবে আজ আর সেই কথা লেখারও সাহস নেই। বলতে হবে বাংলাদেশ অন্ধকার হয়ে গেছে। সব ধ্বংস।

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে দেশে! এটা কি যেই সেই কথা?

প্রশ্ন উঠেছে, বিদ্যুতের যদি এখনই এত বিপর্যস্ত অবস্থা হয়, তাহলে ভাদ্রে কী করবে সরকার! বিদ্যুৎমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, “উই আর ওয়ার্কিং!”

বাট হোয়েন, হাউ?

গত পাঁচ বছরে তিন সরকারের একই দিনের বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ এবং লোডশেডিংয়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এখন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে।

দুই বছরের ব্যবধানে লোডশেডিং বেড়ে প্রায় ১৮ গুণ হয়েছে। আর পাঁচ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৪৯.৫ গুণ।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাবে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ২০২২ সালের ১০ আগস্ট দেশে লোডশেডিং ছিল ৫৫ মেগাওয়াট।

এবং ২৩ সালে ছিল ১১০ মেগাওয়াট।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পর ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিন পর ১০ আগস্ট লোডশেডিং ছিল ১৫১ মেগাওয়াট, পরের বছর ২০২৫ সালে যা ছিল ৫৯ মেগাওয়াট।

এবং চলতি বছরের একই দিনে দেশে লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৭২২ মেগাওয়াট।

মানুষ পাগল হয়ে যাচ্ছে। কী করবে না করবে দিশা হারিয়েছে।

বিদ্যুতের অভাবে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে কলকারখানা। হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে গেছে, সংসার চালাবে কীভাবে ওরা?

চিংড়ি চাষিদেরও মাথায় হাত। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, বিদ্যুৎ বাঁচাতে রাত ৮টার মধ্যে বাজার, দোকানপাট, শপিং মল বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তাতে কী হবে? ব্যবসা বাণিজ্য লাটে, অর্থনীতি শেষ!

জ্বালানি সঙ্কট বা গ্রিড বসে অতীতেও অনেকবার অন্ধকারে ডুবেছে বাংলাদেশে। কিন্তু এ বারের মতো পরিস্থিতি যে কবে দেখা গিয়েছে, তা অনেকেই মনে করতে পারছেন না।

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মামুদ তো আত্মসমর্পণ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রাকৃতিক গ্যাসের যে টার্মিনালে আগুন ধরে গিয়েছিল, সেটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর উপায় নেই।

মন্ত্রীর কথায়, ‘এটুকুই বলতে চাই, উই আর ওয়ার্কিং। এই ক্রাইসিসের সময় আসলে এখন আমার কিছু করার নাই। কারণ, এখন আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারব না।’

এমন অবস্থায় ভারতের দ্বারস্থ হয়েছে তারেক রহমানের সরকার।

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল চাইল সরকার।

ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ডিজেল সরবরাহের জন্য ঢাকার তরফ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে ভারতকে।

জ্বালানি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের সঙ্গে থাকা পাইপলাইনের মাধ্যমেই বর্তমানে ডিজেল আসে।

অতিরিক্ত সরবরাহের জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনটি শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত।

পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল পরিবহণের ফলে রেলের তুলনায় দ্রুত এবং কম খরচে জ্বালানি পৌঁছনো সম্ভব হয়।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জায়গায় জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুতের অফিসে হামলা, নীলফামারি, সৈয়দপুর এবং কুষ্টিয়ায় অগ্নিসংযোগেরও ঘটনা ঘটেছে।

বিদ্যুতের বিল আদায় করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছেন কর্মীরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *