ঢাকা: ধানমন্ডি ৩২ রক্ষা করার জন্য, এবং যারা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মজুত থাকতো- তাহলে তারেক রহমানের সরকার অনেক সম্মান পেতো।

কিন্তু সেটা হয়নি। বরং জনগণ যাতে শোক দিবসেও জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে না পারে সরকার তার ব্যবস্থা করে রেখেছে।

ইতিহাসকে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখা যায় না। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সেই নির্মম ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গভীর ক্ষত।

অথচ সেই শোকাবহ দিবসের আগের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মতো ঐতিহাসিক স্থানে নিরাপত্তার নামে ব্যারিকেড ও কড়াকড়ির দৃশ্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে—কিন্তু ইতিহাসের প্রতি অসম্মান করলে সেই অসম্মান ফিরে আসে, সেটা ইতিহাসই বলে।

ভাঙাচোরা, পোড়া বাড়িটা নিয়ে এখনো ভয় তাঁদের। ধানমন্ডি ৩২ শুধু একটি ভবনের নাম নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন।

রাতে দেখা গেছে, সেখানে রাস্তায় ঢোকার মুখে পুলিশের ব্যারিকেড, কয়েকশত পুলিশ দুই পাশে পাহারা দিচ্ছে। পুরো ধানমন্ডিজুড়ে সাদা পোশাকে আরও দ্বিগুণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতি।

তাদের উদ্দেশ্য, কেউ যেন বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে বা দোয়া করতে না পারে। যে কোনো মূল্যে তা আটকাতে হবে।

১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় র‍্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি এলাকায় চলছে ব্যাপক তল্লাশি। যেন সাধারণ মানুষ কোনো ফুল সঙ্গে রাখতে না পারে। ওরা তো বোমা নিয়ে যাবে না ধানমন্ডিতে। যাবে ফুল নিয়েই।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান দেখা গেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *