ঢাকা: কোনো শয়তানি না, কোনো জঙ্গী কার্যকলাপ না, কোনো বোমা ফিট করা না, ১৫ আগস্ট শোকের দিনে ৩২ নাম্বারে ফুল দিতে গিয়েছিলেন তিনি।
আর এই কারণেই আটক করা হয়েছে অর্ণব দাসকে।
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের এই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। অর্ণব দাসের বয়স ৩৭।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় অবস্থানকালে তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে ধানমন্ডি থানায় নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে অর্ণব দাসের বাড়ি টাঙ্গাইল। টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখা যায় তাঁকে।
যে দেশে সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গিদেরকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যে দেশে খুনী ধর্ষক বা সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার হয় না, অথচ ফুল দিতে এলে পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়ে গ্রেফতার হতে হয়, সে দেশ জাতির পিতার মাথায় প্রশ্রাব করে সেই দেশের কপাল কি খুব ভালো বলেন?
জনবিস্ফোরণ যখন ঘটবে, তখন ঠেকানো যাবে? আজ দেখা গেছে- ধানমন্ডি-৩২ ঘিরে সরকারের কড়াকড়ি, ফুল দিতে আসা ব্যক্তিদেরকে আটক করা হচ্ছে।
পোড়া, ভাঙা, ধ্বংসস্তূপে পরিণত ধানমন্ডি ৩২। ভেঙে, পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে- কিন্তু হৃদয়ে যে বাঙালি ধানমন্ডি ৩২ অঙ্কন করেছে তাকে পোড়াবে কীভাবে?
যে বাড়িতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল, তাঁর ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে সেই বাড়ির চারপাশ ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
যাতে বাঙালি গিয়ে সেখানে ফুল, শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে না পারে। সাধারণ মানুষকেও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার সকাল থেকে ধানমন্ডি ৩২ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।
৩২ নম্বরের মূল প্রবেশপথ ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যারিকেডের ভেতরে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।
দেখে মনে হচ্ছে কোনো অপরাধী বুঝি ভেতরে আছে! অনেকেই এই পরিস্থিতিকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভীতিকর পরিবেশের স্মৃতির সঙ্গে তুলনা করছেন।
“স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর বাড়িতে মানুষ ফুল দিতে বা শ্রদ্ধা জানাতে পারবে না কেন?”—এ প্রশ্ন তুলছেন জনসাধারণ।
