ধানমন্ডি: ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কেবল ইট-পাথরের কোনো দালান নয়, এটি বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক চিরন্তন সাক্ষী।
এই ঐতিহাসিক বাড়িটির ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞ আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ইতিহাস রক্ষার বিষয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, তাই বলে জাতির পিতার অপমান? ভাঙচুর? পোড়াও?
দেখেন,আপনারা যদি বলেন এই বাংলাদেশ স্বাধীন করতে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ভূমিকা নেই, এই ধানমন্ডি ৩২ জাস্ট একটা বিল্ডিং…. এই কথা কী কোনোদিন সত্য হবে?
একটা চরম বাস্তব হচ্ছে, ধানমন্ডি ৩২, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ওদের হিংসা যত প্রবল হবে, তত রোষ বাড়বে জনগণের। এইভাবে ইতিহাসকে কেউ অস্বীকার করতে পারেনি। মারধর করে, ব্যারিকেড দিয়ে পারবে ওরা দমাতে?
রাজনৈতিক পরিবর্তন, ক্ষোভ কিংবা মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলার এই চেষ্টা কি কোনো জাতিকে সত্যি সামনে নিয়ে যেতে পারে?
ইট-পাথরের কাঠামো হয়তো ভেঙে ফেলা যায়, কিন্তু একটি দেশের স্মৃতি ও দলিলকে চাইলেই বিলীন করা সম্ভব নয়।
এই যে ধানমন্ডি ৩২ এ ফুল দিতে বাধা দেয়া হচ্ছে, মারধর করা হচ্ছে এটা কি খুব ভালো হচ্ছে দেশের জন্য!?
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও সিঙারা বিলি করার অপরাধে তিনজনকে প্রবলভাবে মারধর করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে প্রবেশের মুখে এইসব ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে মারধরের শিকার ব্যক্তিদের নাম জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে একজন রিকশাচালক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন।
একপর্যায়ে আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর কাছে গিয়ে ফোন পরীক্ষা করেন। ভিডিওটি যুবলীগের এক ব্যক্তিকে পাঠানোর অভিযোগ তুলে তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, সকাল সোয়া ১০টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে আসা অর্ণব দাসকে আটক করেছে পুলিশ । তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের সক্রিয় কর্মী।
এছাড়াও রিকশাচালককে মারধরের সময় সেখানে থাকা আরেক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে তাঁকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে সেখান থেকে চলে যান।
এবং বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিঙারা বিলি করার অভিযোগে আরও একজনকে মারধর করা হয়। তাঁর হাতে থাকা ব্যাগে সিঙারা ছিল।
