ঢাকা: আমির হামজাদের মতো যারা আছে তাদের কপালে ভালো কিছু নেই। এরা পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
জামায়াতের এমপি আমির হামজা সাহেবের ওয়াজ যারা শুনেছেন তাঁরা জানবেন। কী চমৎকার রুচি! ওয়াজের মঞ্চে বসে তিনি নিজের সংসদীয় সহকর্মীদের নিয়ে যে ভাষায় কথা বলেন, সেটা শুধু অসভ্যতাই না- বিষাক্ততা !
“রুমিন ফারহানা আপা আছে… মন্ত্রী পটলের মেয়ে আছে… ডানে বামে বডিওয়ালা লোক… উকুন মারা যাবে বডির উপরে!”- একজন সংসদ সদস্যের মুখ থেকে যখন এই লেভেলের বডিশেমিং আর বিকৃত রুচির কমেন্ট আসে, তখন বুঝতে হবে আমাদের পলিটিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।
হুজুর যখন এমপি হন, তখন ওয়াজের মঞ্চ আর সংসদের পার্থক্য ওরা বুঝবে না! এমন লোক রিপ্রেজেন্টেটিভ!
নারীদের বডি নিয়ে ট্রল করা, স্লাটশেমিং করা, আর কথায় কথায় সহকর্মীকে ‘নাস্তিক’ ট্যাগ দিয়ে ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা- এটাই এদের ‘সংসদীয় রাজনীতি’। কিন্তু তখন কেউ একটা কথা বলে না। কোনো প্রতিবাদ নেই।
এমন বিকৃত রুচির মানুষ কি আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? আমরা কি এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে সংসদ সদস্যরা সবচেয়ে বড় বুলিং মাস্টার?
আমির হামজার চরিত্রে কেবল শয়তানি। তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন নুরুল হক নুর।
ফেসবুকে লিখেছেন:
“তথাকথিত আলেম কুষ্টিয়া জামায়াতের এমপি আমির হামজা ইতোমধ্যেই কথা-বার্তায় নিজেকে একজন নারী ও সমাজ বিদ্বেষী, অর্বাচীন, উন্মাদ হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
আমি অবাক হয়েছি তার কর্মকান্ডের জন্য তাকে শোকজ কিংবা না শাসিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার সাহেব উল্টো বিবৃতি দিয়ে আমির হামজার অসভ্যকে উৎসাহিত করেছেন।
সাতক্ষীরার নজরুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার আমির হামজা এটা বর্তমান জামায়াতের সামগ্রিক চরিত্র কিনা জানি না।
জনাব আমির হামজা বর্তমানে কুষ্টিয়ার একজন সংসদ সদস্য, জামায়াতের নেতা। ওয়াজ মাহফিলের বক্তা হিসেবেও পরিচিত।
তিনি ওয়াজের মাঠে বলিউড অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার ফিগার বর্ননা করেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের সমর্থন না করলে জান্নাতে যাবে না বলে ফতোয়া দেন, নারী সংসদ সদস্যদের দেহাকৃতি নিয়ে করুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী, প্রশাসন, বিএনপি নেতা ও সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে প্রায় প্রায়ই বাজে মন্তব্য করেন।
তার এসব বক্তব্যের কারণে জামায়াতের কেন্দ্র থেকে তাকে সতর্কতা বা নিষেধ করা হয়েছে এমন কোন বার্তা চোখে পড়েনি।
গত পরশু বরাবরের মতো আমির হামজা ওয়াজে এবার গণঅধিকার পরিষদ ও আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন।
যার প্রেক্ষিতে শহরে শনিবার কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল করে। মিছিলের কথা শুনে আমির হামজা উন্মাদের মতো জামাত-শিবিরের ক্যাডারসহ গাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিছিলকারীদের ওপর হামলা চালান। কিন্তু নাটক তৈরি করেন তার গাড়িতে হামলা করা হয়েছে।
আমির হামজার রগকাটা, উগ্রবাদী ধর্মান্ধদের হামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সভাপতি সোহানের নাকের হাড় ভেঙে গেছে, সাধারণ সম্পাদক মুহাদ্দিসকে কুপিয়ে পায়ের রগ কেটেছে, কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খালেক ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। এবং হামলায় প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হয়েছে।
দুঃখজন, মিডিয়ায় থাকা জামাতি এজেন্টরা প্রকৃত ঘটনা হাইড করে উল্টো নিউজ করেছে। এমনকি অদ্য শনিবার আমির হামজার রগকাটা উগ্র ধর্মান্ধ বাহিনী আজকে প্রকাশ্যে লাঠিসোটা হাতে মিছিল করেছে। যা অত্যন্ত উস্কানীমূলক ও নিন্দনীয়”।
