হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব তথা স্বঘোষিত পুলিশ হত্যাকারী মাহাদি হাসানসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কলার ধরে মাহাদিকে গাড়িতে ওঠায় পুলিশ।

লোডশেডিং, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুলিশ তাকে আটক করে। এই প্রস্তুতিতে তার সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ছিলো।

আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের কোর্ট মসজিদের সামন থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মির্জা সুমন ও রাকিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ যখন টেনে নিয়ে যাচ্ছে তখন মাহাদি বলে আমাকে কোন অপরাধে নিয়ে যাচ্ছেন?

মনে হয় সে কিছুই জানে না, ছয় মাসের শিশু এখনো! অথচ এই মাহাদিই পুলিশ মেরে ঝুলিয়ে দেয়, আবার পুলিশের সামনে গিয়ে টেবিল চাপড়ে স্বীকার করে! এখন সব ভুলে হুজুর হয়েছে!

*যমুনা টিভির* ফেসবুক পেইজে মাহাদি গ্রেপ্তারের ভিডিওটি দেয়া হলো:

https://www.facebook.com/share/v/1D8ZnkA6py/

মাহাদি হচ্ছে পুলিশ হত্যার মাস্টারমাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল কমান্ডার।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ছাত্রজনতার ব্যানারে তারা বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে তারা জড়ো হলে ঘটনাস্থল থেকে মাহদিসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

একদম ঠিক মতো মনে আছে তো মাহাদির কথা? ভারতে গিয়ে এমন প্যাঁদানি খেয়েছিলো, তারপর ফিরেছে ছুঁচোর মতো দেশে। আর ওমুখো কোনোদিন হতে পারবে না।

ইদানীং যেখানেই যাচ্ছে, জনগণ ভিডিও করে রেখে দিচ্ছিলো। আর ক্যামেরা দেখলেই ধেয়ে আসে মাহাদি।

‘বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছি’- এই জঙ্গী বাটপার থানায় ওসির সামনে বসে হুমকি দিয়ে চলতি বছরের শুরুতে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তুলেছিলো।

সেই মাহদীই কিন্তু নিজেকে বাঁচাতে আশ্রয় নিয়েছিলো থানা পুলিশের কাছে। কেন ভাই? তোর সহযোদ্ধারা কোথায়?

ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছে অভিযোগ করে মাহাদী ১০ জুন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করে।

এ সময় দেখা যায়, মাহাদী আতংকে রীতিমতো কাঁপছে। প্রাণ বাঁচাতে আরেক জনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছে হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে।

লাইভের শেষ দিকে থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আর্তি জানায়।

মাহদী হাসান লাইভে দাবি করে, ছাত্রদলের কর্মীরা নাকি তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় আশ্রয় নিয়েছে।

ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলে, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পার্সোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পার্সোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষ দিকে বলে, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম, এখানে আমার একটি নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।’

সারা দেশ কেঁপে গিয়েছে পুলিশদের ওপর কীভাবে অত্যাচার হয়েছে আগস্টে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিনে একদল জঙ্গী বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশকে অবরুদ্ধ করে।

গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে ঘোষণা করে এই জঙ্গী মাহাদি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *