ঢাকা: দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন সমস্যাগুলো বসে আলোচনা করেন তখন অনেক সমস্যার এমনিই সমাধান হয়ে যায়। আর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বারবার এই কথাটাই বলে আসছেন।
গণতন্ত্রে ইস্যু থাকবেই, তবে সমাধানের পথও আছে।
আর তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে যে টালবাহানা চলছে, তা শুভ নয়। এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন বাংলাদেশ অনেক সুযোগ হারাবে।
ভারত জন্ম থেকে বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী। একটা স্বাধীন প্রতিবেশী এবং সর্বোপরি যাকে ছাড়া দেশ স্বাধীন হতো না, তার ডাকে সাড়া না দেয়া খুব ভালো হবে না।
বিদ্যুৎ, ডিজেল, পানি চুক্তি, বানিজ্য, ঋন নেওয়া, সিমান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বিপদে পড়ে যাবে।
মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান করতে দুই বছরের আগে সম্ভব না। জনগণ কি দুই বছর দুর্ভোগ সহ্য করতে রাজি হবে?
পরিস্থিতি সামাল দিতে তারেক রহমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে বলেছে, শেখ হাসিনা আর হাদির কথিত খুনিদেরকে ফেরত না দিলে, তিনি ভারত সফর করবেননা।
হাদীর খুনিকে ভারত ফেরত দিতে পারে। কিন্তু ভারত সফর বাতিল করলে, ভারত কিছুই দেবে না। এটা একদম তিন সত্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি।
তিনি বলেছেন, তারেক রহমান ভারতে না এলে এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথও খোলা না থাকতে পারে। তাই তারেক রহমানের সফর নিয়ে তিনি ‘খুবই আশাবাদী’ বলে জানিয়েছেন।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথা এবং বলা যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই ভারতীয় রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেছেন, এই সফরের মাধ্যমে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ও রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই হতে পারে প্রথম ভারত সফর।
উল্লেখযোগ্য যে, সাবেক রাষ্ট্রদূত বিদ্যা ভূষণ সোনি ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন পোড় খাওয়া কূটনীতিক। বিশ্বজুড়ে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
কয়েক সপ্তাহ ধরেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সক্রিয় আলোচনা চলছে।
সাক্ষাৎকারে বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেন, ‘আমি বেশ আশাবাদী। দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয় সুরাহা করা প্রয়োজন। এর মধ্যে তিস্তা নদীর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে অধিকাংশ বিষয়ে সমঝোতা হলেও শেষ মুহূর্তে কিছু সূক্ষ্ম জায়গায় নীতিগত সিদ্ধান্ত বাকি রয়ে যায়।’
বিদ্যা ভূষণ সোনি বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভারত মধ্যস্থতাকারী বা কার্যকর আলোচনার ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, নয়াদিল্লির কথা শোনার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও ভারতের এই কূটনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগাতে চায়।’
এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে তারেক রহমান ভারত বিরোধী নন।
বলেন, ‘তিনি ভারতবিরোধী নন এবং ব্যক্তিগতভাবে ভারতবিরোধী কোনো বক্তব্য তিনি দেননি। তাই দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের এই ইতিবাচক সুযোগটি কাজে লাগাতে ভারত সরকারও সতর্কভাবে এগোচ্ছে।’
