ঢাকা: আজ নারী চালক ও কন্ডাক্টর নিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া জেলায় চালু হলো বিআরটিসির ‘পিংক বাস’।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁও বিআরটিসি ডিপোতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই সেবার উদ্বোধন করেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমরা নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ বাস পরিচালনা করতে চাই। উদ্দেশ্য হচ্ছে, নারীরা বাসে ওঠার আগে বা ওয়েটিংয়ের সময় যাত্রীবান্ধব পরিবেশ পাবে; বাসে ওঠার পর নারীবান্ধব বাস সার্ভিস পাবে; বাস থেকে নামার সময়ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ পাবে।

তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক যেহেতু নারী, রাষ্ট্র বিনির্মাণে নারীর অবদান স্মরণীয় ও সমান, আবার আমাদের ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী, পরিবারে-সংসারের ড্রাইভিং সিটে আছে নারী, অতএব তাদের যোগ্যতা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগানোর জন্য তাদের একটা নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা দরকার।

সেই বিবেচনায় এই সরকার ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার ছিল যে, আমরা নারীবান্ধব ও নারী কর্তৃক পরিচালিত একটা পরিবহন ব্যবস্থা করব। তার অংশ হিসেবে আমরা ১৪টি বাস চালু করছে।

এই পরিষেবার অনেকে প্রশংসা করেছেন অনেকে যুক্তি দিয়েছেন।

এই পিংক বাস ভারতেও চলে। এই বিষয়ে অনেক কথাই বললেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

বলেন, “বাংলাদেশ প্রথম নয়। ভারতের বিহারে ২০২৫ থেকে women-only “Pink Bus” চলছে; ২০২৬ সালে নারী চালকেরাও সেগুলো চালাচ্ছেন।

পাকিস্তানে Lahore-এ Pink Bus ছিল, Karachi-তেও women-only Pink Bus হয়েছে; নেপালের কাঠমান্ডুতেও women-only bus চালু হয়েছিল।

আর শুধু বাস নয়—Mexico City, Rio de Janeiro, Japan, India, Egypt-সহ বহু জায়গায় নারী-নির্দিষ্ট ট্রেন/মেট্রো কামরা ব্যবহৃত হয়েছে”।

তবে এটি নারীদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা হতে পারে না।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, “Women-only বাসকে আমি স্থায়ী সমাধান বা আদর্শ ব্যবস্থা বলব না। কিন্তু যেখানে নারীরা প্রতিদিন এত বেশি হয়রানির শিকার হন যে তাঁরা পড়াশোনা, চাকরি বা চলাফেরা ছেড়ে দেন, সেখানে এটি স্বল্পমেয়াদি, ঐচ্ছিক নিরাপত্তাব্যবস্থা হিসেবে কাজে লাগতে পারে।

Rio-র গবেষণায় women-only car-এ শারীরিক হয়রানি প্রায় ৫০% কমেছিল; Mexico City-র গবেষণাতেও যৌন হয়রানি কমার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক উপকার একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কিন্তু সমস্যাটা এখানেই: নারীকে সরিয়ে দিলে অপরাধী পুরুষটির আচরণ বদলায় না। বরং বিপজ্জনক একটা ধারণা তৈরি হতে পারে—নারীর “ঠিক জায়গা” হলো women-only compartment; সাধারণ কামরায় গেলে যেন সে নিজের ঝুঁকিতে গেল। Rio-র গবেষণায় এমন সামাজিক ধারণার প্রমাণও পাওয়া গেছে”।

নারীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য হলো পিংক বাস। এখন পিংক বাস থেকে নারী কোথায় যাবে? নারী পুরুষ মিলিয়েই তো পৃথিবী!

তসলিমা লিখেছেন, “ওই বাস থেকে নেমে নারী কোথায় যাবে? অফিসে পুরুষ আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে, বাজারে আছে, রাস্তায় আছে, সংসারে আছে। সমাজটাই তো নারী-পুরুষের যৌথ সমাজ। ফলে সমাধান হতে পারে না, “কিছু পুরুষ নারীকে হয়রানি করে, অতএব নারীকে পুরুষ থেকে সরিয়ে দাও।”

সমাধান হওয়া উচিত, যে পুরুষ হয়রানি করে তাকে থামাও, ধরো, শাস্তি দাও এবং ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের সমতা ও সম্মানের শিক্ষা দাও।

এই কারণেই transport-policy বিশেষজ্ঞদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো, sex segregation যেন harassment-এর default response না হয়। বরং দরকার ভিড় কমানো, আলো ও নিরাপদ বাসস্টপ, CCTV, দ্রুত অভিযোগ করার ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত কর্মী ও পুলিশ, zero-tolerance policy এবং কার্যকর শাস্তি।

আমার কাছে তাই বাংলাদেশের উদ্যোগটির দুটি অংশ আলাদা করে দেখা উচিত। নারীকে বাসচালক, কন্ডাক্টর, পরিবহনকর্মী করা—এটা খুব ভালো; পুরুষ-অধ্যুষিত পেশায় নারীর প্রবেশ ঘটছে।

কিন্তু নারী চালক মানেই নারী যাত্রী হতে হবে কেন? নারী চালক পুরুষ-নারী সবাইকে নিয়ে বাস চালালে বরং আরও শক্তিশালী বার্তা যায়: নারী শুধু “নারীর জন্য” কাজ করবে না, সে পুরো সমাজের বাস চালাতে পারে।

আমি হলে নীতিটা করতাম: women-only বাস চাইলে অতিরিক্ত ও সাময়িক option থাকুক, কিন্তু রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হবে mixed bus-কে এত নিরাপদ করা যে আলাদা বাসের আর প্রয়োজন না থাকে। সমতার শেষ লক্ষ্য segregation নয়—একই জায়গায় সমান অধিকার ও নিরাপত্তা”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *