পত্রিকায় ছোট একটি খবর চোখে পড়লো। তা হলো-“জাতীয় পতাকার বেআইনি ব্যবহার বন্ধে লিগ্যাল নোটিস”। এটি দেখে ভাবছিলাম, যে দেশটিকেই ইসলামী জঙ্গীবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে একটি গোষ্ঠী সেখানে শুধুমাত্র জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় নোটিশ দিয়ে কি জাতিকে রক্ষা করা যাবে?

যেখানে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাষ্ট্রপরিচালনার দেশের মূলনীতিই পদদলিত করা হয়েছে সেখানে জাতীয় পতাকার সম্মান রাখবে কারা?

নানাভাবেইতো মুক্তিযুদ্ধের নীতি-আদর্শ নস্যাৎ করার সব আয়োজন শেষ করা হয়েছে। তো এখন শুধুমাত্র জাতীয় পতাকার সম্মান নিয়ে চিন্তা করলে হবে?

তবে এটিও ঠিক যে, ওই লাল-সবুজের পতাকা দিয়েইতো এই বাংলাদেশটিকে চেনে সারা বিশ্বে। সেই পতাকার সম্মান মানেই তো দেশের সম্মান। এই পতাকা যে শুধুমাত্র কাপড় নয় তা কিন্তু ইসলামী টোকাই জঙ্গীরা বোঝেনা। বোঝেনা বললেও বোধকরি ঠিক হবেনা।

কারণ এরাই সেই ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টে ওই রক্তেভেজা পতাকার অবমাননা করেছিল চরমভাবে। তারাতো আসলে এই পতাকাটিকে সহ্য করতে পারেনা। যেমন পারেনা জাতীয় সঙ্গীতকে সহ্য করতে।

তেমনি পারেনা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাওয়া বাহাত্তরের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানকে। তাইতো ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতিব জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একাত্তরের পরাজিত দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা স্বপরিবারে হত্যা করেছে নির্মমভাবে।

পত্রিকার নিউজে পড়লাম-জাতীয় পতাকার অনিয়মতান্ত্রিক ও বেআইনি ব্যবহার বন্ধে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মো. শরীফ সরকারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী গত ১৭ আগষ্ট সোমবার এই নোটিস পাঠিয়েছেন।

নোটিসে ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ, ১৯৭২’ ও ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’-এর লঙ্ঘন করে সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকার অনিয়মতান্ত্রিক ও বেআইনি উত্তোলন, প্রদর্শন ও ব্যবহার বন্ধ ও প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ডেস্ক ও দেয়ালে সাজসজ্জা হিসেবে এবং সরকারি কর্মচারীদের ব্যবহৃত চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা রাখা বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয় এতে। আর তা নোটিস পাবার তিন দিনের মধ্যেই।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে এতে বিবাদী করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিসকক্ষে ভাঁজ করা জাতীয় পতাকা কর্মকর্তাদের চেয়ার বা সোফার পেছনে নিচু স্ট্যান্ডে রাখা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন অফিসের টেবিলেও জাতীয় পতাকা সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে রাখা হচ্ছে। এ ধরনের ব্যবহার জাতীয় পতাকার মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুণ্ন করে।

এই আইনজীবী আরো জানান, পতাকা বিধিমালার ৬ নম্বর বিধিতে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও অফিসে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিধান আছে।

অফিসকক্ষের ভেতরেও পতাকা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও পতাকার আকার, অনুপাত ও রঙের বিধানও মানতে হবে।”

এ বিষয়ে একটি দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে। তা হলো সেই ২০২৪ এর কথিত জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা দেখেছি আমাদের জাতীয় পতাকা বিছিয়ে তার ওপর নামাজ আদায় করার চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে একদল ইসলামী-জঙ্গী তষ্কর।

কিন্তু তাতে তাদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পদপিষ্ট করা হয়েছে বার বার আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে রঞ্জিত ওই লাল-সবুজের জাতীয় পতাকাকে।

এদেশে কথিত পতাকার অবমাননায় মামলা হয় সংসারত্যাগী এক হিন্দু সাধু চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে। অথচ এই পতাকা ওড়ানোর সঙ্গে চিন্ময়ের নুন্যতম কোন সংযোগ নেই।

অভিযোগ আনা হয়েছে একটি গেরুয়া রঙের পতাকা চট্টগ্রামের বিপনী বিতানের মোড়ে যে চত্বর আছে সেখানে ওড়ানো হয়েছে। আর তাতে নাকি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ হয়েছে।

কিন্তু হতে পারে শুধুমাত্র পতাকা অবমাননার (যেই করুক না কেন) মামলা। তবে এটি নিশ্চিত যে এর সঙ্গে চিন্ময়ের কোন যোগসূত্র নেই। কিন্তু বিএনপি’র এক পাতিনেতা চিন্ময়কে গ্রেপ্তার ও হিন্দুদের আন্দোলনকে দমাতে সেনা গোয়েন্দা ও জামায়াত-হিযবুতের ইন্ধনে মামলা করে তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু সেই কথিত জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখেছি ইসলামী ছাত্র শিবির যেটি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন তারা তাদের পতাকাকে জাতীয় পতাকার উপরে দিয়ে বেঁধে রাজপথে তাদের সমাবেশ করেছে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বফুটবল চলাকালে কলেমা লেখা পতাকা টানানো হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার উপরে। তা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেই দেখা গেছে।

এই কলেমা লেখা পতাকা যে ইসলামী জঙ্গী সংগঠন আইএস এর অনুসারিরা লাগিয়েছে তাতো বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেই এসেছে।এরসঙ্গে জড়িত রয়েছে আরেক চরমপন্ধী জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর।

অবশ্য এই সংগঠনটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ শুধুমাত্র নামকাওয়াস্তে। এরা বাংলাদেশের সশস্র বাহিনীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গাতেই রয়েছে।

কিন্তু জাতীয় পতাকা অবমাননার মামলা কিন্তু এদের কারো বিরুদ্ধে হয়না এই বাংলাদেশে। হয় শুধু সনাতনী সাধু চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে ও তার অনুসারিদের নামে যারা ২০২৪ এ সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অন্যায়-অত্যাচার-খুন-হামলা-অপমানের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমেছিল।

কারণ হিন্দুদেরকে আন্দোলন করতে দিলে নাকি এই মুসলিম রাষ্ট্রের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। অথচ এই চিন্ময়ের সাথে বিএনপির কান্ডারি তারেক রহমান ( তখন অবশ্য তিনি প্রধানমন্ত্রী হননি) লন্ডন থেকে বিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন। হিন্দুদের অধিকার রক্ষায় তার ( তারেক রহমানের) প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন।

শুধু বিএনপি নেতারা নয়, তখন কিন্তু জামায়াতে ইসলামী নেতারাও চিন্ময় দাসের সঙ্গে গিয়ে মিটিং করেছেন।

এমনকি টোকাই জঙ্গীদের দল এনসিপি নেতাদের তাত্ত্বিক গুরু ও হাইল পেইড কনসালট্যান্ট হিসেবে কুখ্যাত ফরহাদ মজহার সেই রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে চিন্ময়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। তার আন্দোলনের যৌক্তিকতা শুনেছেন।

সেসব ছবি ও নিউজ এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়ায়।
এতসব কথা বলার পেছনে একটিই উদ্দেশ্য- আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির সিনিয়রমোষ্ট নেতারা যে বলেন, এদেশে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার। এই কি সেই সমান অধিকারের নমুনা।

তারা সমান অধিকারের পাশাপাশি ‘বেনিআসহকলা’ বা রংধনু সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নও দেখান জাতিকে। আসলে এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর মাত্র তা বিএনপি’র গত ৬ মাসের শাসনামলেই প্রমাণিত হয়েছে।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন , জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় সম্মান দেখিয়ে না দাঁড়ানোর জন্য অনেক উদাহরণ আছে দেশে। এই সন্মান প্রদর্শন না করা নিয়ে এবং গত দুই বছরে জাতীয় পতাকা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতির পিতা নিয়ে যে অপমান হয়েছে তাতে জাতি হিসেবে আমাদের অবস্থান কোথায়?

যে বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে, আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন এই বাঙ্গালি জাতিকে সেই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে চরমভাবে অপমান করেছে মব সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে। আর সেটি করেছে কিন্তু ওই ইসলামী জঙ্গীরাই শুধু নয়, এর সঙ্গে বিএনপি ও তার অংগসংগঠনের লোকজনও জড়িত ছিল।

অথচ এই মুক্তিযোদ্ধারাও কিন্তু আমাদের জাতীয় সম্মানের প্রতীক। অথচ মুক্তিযোদ্ধাদেরকেও গলায় জুতোর মালা পরিয়ে চরমভাবে অপমানিত করা হয়েছে। এ অপমান-দৈন্যতা কার? এর দায়ভারতো জাতি হিসেবে আমাদের সবার।

বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের। অথচ আমরা সেই নাগরিক দায়িত্ব পালনে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছি। এর কোন ক্ষমা নেই।

জাতীয় যেসব প্রতীক রয়েছে তার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন ও মর্যাদা রক্ষা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। এর প্রতি যে কোন ধরনের অবমাননা জাতি হিসেবে আমাদের চরম লজ্জার ও চরম মানসিক দৈন্যতার পরিচায়ক।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, ইতিহাস এবং গৌরবের প্রতীক হলো তার জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত। এগুলো কোনো সাধারণ চিহ্ন বা সুর নয়, বরং লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত একটি ভূখণ্ডের আত্মপরিচয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং দেশের ঐতিহাসিক ভিত্তিগুলোর প্রতি একধরনের অবমাননা ও তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, স্মৃতিস্মারক, ম্যুরালসহ নানা ইতিহাস-ঐতিহ্য , বাঙ্গালি জাতির জনক ও স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে তা নিশ্চয়ই সারাবিশ্বের জনগন দেখেছে। যে জাতি জাতীয় বীর ও জাতীয় প্রতীককে সম্মান করতে জানেনা সে জাতি কখনো সভ্য হিসেবে পরিচয় দেয়ারও যোগ্যতা রাখেনা।

জাতীয় সঙ্গীতের সময় সম্মান প্রদর্শন না করা কিংবা জাতীয় প্রতীকগুলোকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি করা একটি গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকটের চিত্রটিকেই সামনে নিয়ে আসে। এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে জাতি হিসেবে আমাদের বর্তমান অবস্থান এবং নৈতিক অবক্ষয়ের একটি উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে ওঠে।

ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটি স্বাধীন দেশেই জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।

কিন্তু বর্তমান সমাজে একশ্রেণীর মানুষের মধ্যে এই কর্তব্যের প্রতি অবহেলা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীতের সময় সোজা হয়ে না দাঁড়ানো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় প্রতীকের বিকৃতি বা এগুলোকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বিশেষ করে চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সামাজিক অস্থিরতার সুযোগে চরমপন্থী ইসলামী সংগঠনগুলো এই জাতীয় স্তম্ভগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

দেশের চরম রাজনৈতিক বিভাজন জাতীয় প্রতীকগুলোকে সাধারণ জাতীয় ঐক্যের ঊর্ধ্বে নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষের বিষয়ে পরিণত করেছে। একটি দল বা মতাদর্শের বিরোধিতায় গিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতীকের অবমাননা করার এই মানসিকতা তীব্র রাজনৈতিক অন্ধত্বের বহিঃপ্রকাশ।

চব্বিশের কথিত গণ আন্দোলনের নামে দেশকে যে কোন অন্ধকার গহ্বরে ফেলে দিয়েছে এই জুলাই জঙ্গীরা তা বুঝতে পারছে ঠিকই এখন বাংলাদেশের মানুষ।

তরুণ প্রজন্মের একটি অংশের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস এবং এই প্রতীকগুলো অর্জনের পেছনের ত্যাগের গভীরতা সম্পর্কে অজ্ঞতা রয়েছে। ইতিহাসকে রাজনৈতিক চশমা দিয়ে দেখার ফলে জাতীয় আবেগের জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

জাতীয় পতাকা বিধিমালা এবং রাষ্ট্রীয় অবমাননা বিরোধী আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের অভাব এই ধরণের ধৃষ্টতাকে উৎসাহিত করছে।

এই ধরণের প্রতীকী অবমাননা প্রমাণ করে যে, আমরা একটি গভীর ‘সাংস্কৃতিক ও নৈতিক সংকটের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যে জাতি তার স্বাধীনতার ভিত্তি ও জাতীয় চেতনাকে সম্মান করতে দ্বিধা বোধ করে, বৈশ্বিক দরবারে তার আত্মমর্যাদা সংকটের মুখে পড়ে।

এটি কেবল আইনি অপরাধ নয়, বরং একটি সামষ্টিক মনস্তাত্ত্বিক দেউলিয়াত্ব। এর অর্থ হলো, আমরা নাগরিক হিসেবে অধিকার আদায়ে যতটা অসচেতন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও সম্মানের প্রতি ততটাই উদাসীন হয়ে পড়ছি।

জাতীয় ঐক্য ম্লান হয়ে সেখানে স্থান করে নিচ্ছে চরম ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ।

জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত, জাতির পিতা কোনো নির্দিষ্ট সরকার বা দলের সম্পত্তি নয়, এটি সমগ্র বাঙালি জাতির। জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে এই প্রতীকগুলোর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো সে দায়িত্বটি পালন করবে কে বা কারা? সরকার নিজেই যদি তার রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি ঠিক করতে না পারে তখন সে দেশ-জাতি হয়ে পড়ে দিকভ্রান্ত। আমরা কি ক্রমশ একটি দিকভ্রান্ত জাতিতে পরিণত হয়েছি?

# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *