ঢাকা: কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি একজন স্ত্রী—আর ঢাকায় শেষবারের মতো বিদায়ের অপেক্ষায় তাঁর স্বামী।
ভেবেছিলেন স্ত্রী মুক্ত হবে, আবার সংসার করবেন- হয়নি। স্ত্রী বন্দী রয়ে গেলেন, স্বামী মুক্তি দিয়ে চলে গেলেন।
স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে প্যারোলের আবেদন করেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
চার দিনের আবেদন হলেও শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর হয়েছে মাত্র ১২ ঘণ্টার প্যারোল। তাঁর মেয়েকে আমরা দেখেছি একটু যে পিতার জন্য শোক করবেন সে সময়টুকু নেই- মায়ের প্যারোলে মুক্তির জন্য ঘুরছেন এ দুয়ার থেকে সে দুয়ার। হাতে কাগজ।
দীপু মনির মেয়েকে মায়ের মুক্তির জন্য আদালত প্রাঙ্গণে ছুটতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে বাবাকে হারানোর শোকও তাকে বহন করতে হচ্ছে।
একদিকে মা কারাগারে, অন্যদিকে বাবার মৃত্যু।একজন সন্তানের জন্য এর চেয়ে কঠিন সময় আর কী হতে পারে!
অবশেষে ১২ ঘন্টার মুক্তি এলো! স্বামীর জন্য ১২ ঘন্টা।
স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে তাকে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে পুলিশ ভ্যানে করে পুলিশি পাহারায় ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে মুন্সীগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী ডা. দীপু মনির ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তার প্যারোল কার্যকর থাকবে।
প্যারোলের সময় ডা. দীপু মনি প্রয়াত স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের মরদেহ দেখতে এবং দাফন কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
রাজনীতি, ক্ষমতা, পদ—সবকিছুর ঊর্ধ্বে মৃত্যু। সেই মুহূর্তে তিনি আর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নন—তিনি শুধু একজন স্ত্রী, যিনি স্বামীকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে চান।
ডা. দীপু মনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি। আজ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার তিনিসহ হাজার হাজার ।
