ঢাকা: শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ হয়েছে জঙ্গীদের বাস এবং সহবাসের জায়গা। এখন নাকি জঙ্গীদের কোনো নথিই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!? কী আশ্চর্যের কথা! দেশটায় আর কী ঘটবে?
২০২৪ সালে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের মধ্যে শনাক্ত ১৬৬ জন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি ও সন্ত্রাসীর বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য নেই। কিচ্ছু জানা নেই তথ্য, নথি কোথায় গেছে!
তাদের কারাবন্দি থাকা, মামলা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বেমালুম উধাও। এখন ওরা যে জঙ্গী, কারাবন্দী ছিলো তার কোনো প্রমাণ নেই।
তবে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য না থাকা মানে এই নয় যে এসব আসামির অস্তিত্ব বা মামলার কোনো রেকর্ড নেই।
আদালত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নথিতে তাদের তথ্য থাকার কথা। ফলে পুরো বিষয়টার এখন স্বচ্ছ এবং দেশপ্রেমমূলক তদন্ত না হলে কিচ্ছু বেরোবে না।
এই তথ্য সামনে আসার পরই কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।
ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই কারা ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—১৬৬ জন জঙ্গি ও সন্ত্রাসীর তথ্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নেই কেন?
আরও গুরুতর প্রশ্ন হলো—কারা এসব আসামির ফাইল বা নথি গায়েব করেছে এবং কেন করেছে? কোন উদ্দেশ্যে করেছে? অবশ্য উদ্দেশ্য বিধেয় সবটাই জানা সবার।
কারাগারে বন্দিদের মামলা, সাজা, আদালতের আদেশ, কারাগারে প্রবেশ ও স্থানান্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকার কথা। অবশ্যই থাকবে।
সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গী, বন্দির নথি না পাওয়ার বিষয়টা কি এত সহজে মেনে নেয়ার?
পরিকল্পিতভাবে নথি সরিয়ে ফেলা হয়েছে— এটা তো একদম জ্ঞাত বিষয়।
এর পাশাপাশি সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এসব জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কীভাবে পালানোর সুযোগ পেল?
তাদের পালানোর পেছনে কার সহায়তা?
দেশে এখন ভয়ানক কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন, কারা অধিদপ্তর-এর প্রধান গণমাধ্যমের কাছে এমন কিছু বিস্ফোরক তথ্য দিলেন যা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
ব্রি জে মোতাহার হোসেন দাবি করেছেন দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দী আছেন।
এবং তিনিই বলেছেন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া কিংবা জামিনে মুক্তি পাওয়া বিপুল সংখ্যক জঙ্গির কোনো নথি নেই। অর্থাৎ এগুলো নষ্ট করে দেয়া হয়েছে কিংবা গায়েব হয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শকের এই বক্তব্যের পর আরও স্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়ে গেলো বাংলাদেশে জঙ্গি আছে।
যদিও বিএনপি সরকারের দাবি, দেশে জঙ্গি নেই এবং এসব আওয়ামীলীগের অপপ্রচার ছিলো।
কিন্তু ব্রি: জে: মোতাহার হোসেনের বক্তব্যে বোঝা গেলো আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে বিপুল সংখ্যক প্রকৃত জঙ্গিকে আটক করা হয়, যারা শেখ হাসিনা বিরোধী অভ্যুত্থানের সময় বা পরে কারাগার ভেঙ্গে পালিয়ে যায় বা এদেরকে জেল থেকে ছেড়ে দেয় জঙ্গী মোহাম্মদ ইউনুসের প্রশাসন।
দেশের পরিস্থিতি নাজুক বর্তমানে।
