ঢাকা: ইউনুসের অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব এবং জুলাই জঙ্গি সমন্বয়কদের আসামি করা হবে না। কারণ এদের ক্ষমতা এখনো চলছে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

মামলায় নামোল্লেখ করা ২৭ জন আসামি—

১. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
২. ড. আসিফ নজরুল
৩. ড. রেজওয়ানা হাসান
৪. শফিকুল আলম
৫. লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
৬. মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
৭. নাহিদ ইসলাম
৮. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
৯. মাহফুজ আলম
১০. আক্তার হোসেন
১১. মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ
১২. আব্দুল হান্নান মাসউদ
১৩. সার্জিস আলম
১৪. সামান্থা শারমিন
১৫. নুসরাত তাবাসসুম
১৬. ডা. তাসনিম জারা
১৭. নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
১৮. আরিফুল ইসলাম আদিব
১৯. সালেহ উদ্দিন সিফাত
২০. পিনাকী ভট্টাচার্য
২১. ইলিয়াস হোসেন
২২. কনক সরোয়ার
২৩. নুরনবী (অব. কর্নেল)
২৪. তাহরিমা জান্নাত সুরভী
২৫. মো. মিলন
২৬. ফাহিম আল চৌধুরী
২৭. আবুল কালাম আজাদ

এছাড়াও এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৫ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করার আবেদন করা হয়।

বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত আদেশ দিয়ে দেন।

সকালে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা (৪৪) নামে এক নারী মামলাটি করার আবেদন করেন। সকাল ১১টায় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদালত। পরে নথি পর্যালোচনা শেষে দুপুরে মামলার আবেদনটি অপমানজনভাবে খারিজ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ১ থেকে ৯ নম্বর আসামির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ, উসকানি এবং সার্বিক সহযোগিতায় অন্য আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৫ হাজার ব্যক্তি বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে ধানমন্ডি ৩২-এর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে হামলা চালান।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও দাহ্য পদার্থসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এতে ঐতিহাসিক নিদর্শন, দলিল, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন নথি, প্রামাণ্যচিত্র ও বইপুস্তকসহ মূল্যবান সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিছু সম্পদ লুট করে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে দুটি বুলডোজার, এক্সকাভেটর, হ্যামারসহ ভারী যন্ত্রপাতি এনে রাতভর ভবনটি ভাঙা হয় বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।

মামলার আবেদনে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। সেখানে তিনি ‘আজ রাত বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে’—এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

এরপর রাত ৯টার পর মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি ৩২-এর বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে ভবনটি ধ্বংস করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।

মামলার আবেদনে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৯৫, ৪২৭, ৪৩৫, ৪৩৮, ৪৪৮, ৪২০, ৫০৬ ও ৫০৭ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৪ ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়।

একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন বাদীপক্ষ।

তবে আশ্চর্যজনকভাবে আদালত নথি পর্যালোচনা ও বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে মামলার আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে।

আদালতের তরফে এটা যে হবে সেটা প্রায় নিশ্চিত ছিলো।

কারণ, যারা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের অনেকেই বর্তমান ক্ষমতাকাঠামোরই অংশ। বিএনপি ইউনূস, আসিফ নজরুল, রেজওয়ানাদের সেফগার্ড দিয়ে রেখেছে।

তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বই এখন তাদের এই কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। তার চেয়ে আরও বড় সত্য হলো— ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুরের সঙ্গে এই বিএনপিও সরাসরি জড়িত।

বিএনপির বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী খোকা পুত্র ইসরাক ঐ জঙ্গীদেরকে বুলডোজার সাপ্লাই দিয়েছিল ধানমন্ডি ৩২ ভাঙতে।

এরকম যথেষ্ট প্রমাণ আছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *