ঢাকা: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফীক নাওয়াজের জানাজার পর এক ১৯ বছরের কিশোরকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা একমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব।
জনগণ দেখেছে ঐ কিশোর শুধু দীপু মনির উদ্দেশ্যে বলেছেন ‘আপা আছি’, জয় বাংলা! তাতেই গ্রেপ্তার!?
গ্রেপ্তার কিশোরের নাম আল রাফি প্রত্যয় (১৯)। তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে গুলশান থানা পুলিশ।
না প্রত্যয় জঙ্গী, না কোনো সন্ত্রাসবাদী কাজ করেছে, না মব করেছে! কিচ্ছু করেনি!
বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানের আজাদ মসজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বামীর মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া আওয়ামী লীগ নেত্রী দীপু মনিও ওই সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে ছিলেন।
জানা গিয়েছে, প্রত্যয়ের বাড়ি ভৈরব উপজেলায়। প্রত্যয় দিপু মনি আপার প্রিজন ভ্যানের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে বলেছিল, “আপা, আপনার ভয় নেই, আমরা আছি।”
এইটুকুই কি তার অপরাধ?
একজন মানুষকে সাহস দেওয়ার জন্যই যদি গ্রেপ্তার হতে হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, আমরা কোন সমাজে বাস করছি? সুশীল সমাজ কোথায়? মানবাধিকারের কথা বলা মানুষগুলো কোথায়?
ডা. দীপু মনির স্বামী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নেওয়াজের মৃত্যুতে শোকাবহ পরিস্থিতির মাঝেই ঘটে গেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
দীর্ঘ অসুস্থতার পর ডা. দীপু মনির স্বামী তৌফীক নেওয়াজ মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীর মরদেহের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ডা. দীপু মনিকে মঙ্গলবার কড়া পুলিশি পাহারায় তার বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। স্বামীর নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রত্যয় নামের ওই তরুণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দীপু মনির এমন কান্না দেখে প্রত্যয় নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে কেঁদে উঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বসেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই স্লোগান উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন।
দেখা যায়, পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা ওই তরুণকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছেন এবং অপর একটি অংশে তাকে ঘিরে থাকা জনতার মাঝে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। ছবির পাশেই কড়া পাহারায় দীপু মনির উপস্থিতির দৃশ্যও স্পষ্ট।
চরম বিপদের দিনেও নেত্রীর প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসা আর আনুগত্যই আজ তার জন্য অপরাধ হয়ে দাঁড়াল।
একটি সান্ত্বনার বাণী বা সহমর্মিতার অনুভূতি প্রকাশ করাও আজ এই দেশে সবচেয়ে বড় অপরাধে পরিণত হয়েছে।
প্রত্যয় ঢাকার একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র বলে জানান এসআই মফিজুর রহমান।
জাহিদ হাসান নামের এক সংবাদকর্মী প্রত্যয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, “কর্মীরা মনে হয় এমনই হয়। গন্তব্য অজানা তবুও তারা দুঃসাহসিক”!
“গুলশান আজাদ মসজিদের কাছে দীপু মনির প্রিজনভ্যান ঘিরে মোজো সাংবাদিকেরা। মাঝেখানে কিছু তরুণ ছুটছে প্রিজনভ্যানের পিছে। এসময় দীপু মনির স্বামীর মরদেহবাহী গাড়ি বনানীর উদ্দেশে রওনা দিলে দিপু মনিকে বহন করা প্রিজনভ্যানও ছুটছে তখন। কয়েকজন তরুণ বলছে চিৎকার দিয়ে, আপা কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা আছি, কোনো চিন্তা করবেন না। ”
তিনি লিখেছেন, “দিপু মনি ভেজা চোখে এই ছেলেটার দিকে কৌতূহলী চাহনি দেন। ছেলেটা তখন বলে উঠেছে, আপা, জয় বাংলা। দিপু মনির প্রিজনভ্যান ছুটছে। মুহর্তে পুলিশ ছো মেরে ছেলেটা ধরে ফেলছে। আমরা সাংবাদিকেরা দাঁড়ানো। ওরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটা করেছি। পুলিশ ওরে টানছে আর বলছে, তুই কী করিস, জয় বাংলা বললি কেন। বাড়ি কই?”
