ঢাকা: দুই জেলায় কনসার্ট বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ। তৌহিদি জনতা জিন্দাবাদ, পূর্ব পাকিস্তান জিন্দাবাদ, জান দেব জুলাই দেব না জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদে ছেয়ে গেছে দেশ!

কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে গানের অনুষ্ঠান মব করে উগ্রবাদীরা বন্ধ করে দিচ্ছে এর দায় কেবল ও কেবলমাত্র ঐ উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর।

এবং সরকার যতোই সেয়ানা হোক, সেয়ানা করে কথা বলছে জঙ্গী নেই, জাতিসংঘের রিপোর্ট আমলে নেই না বলছে, তাহলে এগুলো কী? কারা করছে এসব?

উগ্রবাদী কাজ বন্ধ করতে হবে। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরো খারাপ কিছু দেখতে হতে পারে।

আল কায়দা বাংলাদেশে সেল গঠন করতে চলেছে বলে রাষ্ট্রপুঞ্জের দাবিকে স্বরাষ্ট্র ও বিদেশ মন্ত্রক খারিজ করে দিচ্ছে অনায়াসে। বলছে ওগুলো নাকি ভুজুং ভাজুং!

এদিকে মৌলবাদীদের হামলা ও হুমকিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে দু’টি সঙ্গীতের অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গিয়েছে।

কোন দল এরা?

চট্টগ্রাম ডিভিশনের ডিআইজি-র সম্মানে আয়োজিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা করতে আসা মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের রাতভর সংঘর্ষে পুলিশ-সহ অন্তত ৩০ জন আহত। পণ্ড হয়ে গেছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সংস্কৃতি, আনন্দ, এসব ইসলামী জঙ্গীরা সহ্য করতে পারে না। তাদের চাই বন্দুকের গুলি, ধর্ষণের জন্য নারী।

স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ লাইনের পশ্চিম পাশে রয়েছে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমান প্রতিষ্ঠিত দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসা।

পুলিশের অনুষ্ঠানে গান-বাজনার অভিযোগ তুলে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মাদ্রাসার কয়েক জন ছাত্র সেখানে হাজির হয়ে আপত্তি করে। পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কথা–কাটাকাটি হয়।

পরে মাদ্রাসার শতাধিক ছাত্র লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশ লাইনে ঢুকে অনুষ্ঠান স্থলে ভাঙচুর শুরু করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠি চালালে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পাল্টা ইট ছোড়ে।

একই অবস্থা কিশোরগঞ্জেও। বৃহস্পতিবার স্থানীয় ইমাম-ওলামাদের আপত্তির মুখে কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে একটি জনপ্রিয় ব্যান্ডের কনসার্ট স্থগিত করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কাছে ইমাম-ওলামা পরিষদ অভিযোগ করেছে, কনসার্টে গান-বাজনা শরিয়ত-বিরোধী। তাই এটি বন্ধ করতে হবে।

পরে, জেলা প্রশাসন কনসার্টের আয়োজকদের ডেকে অনুষ্ঠানের অনুমতি বাতিল করে।

এই সরকার জঙ্গী ইউনূসের কায়দায় চলেছে। একদম এক।

সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত একাধিক সংগঠকের অভিযোগ, বর্তমান বিএনপি সরকার বিগত ইউনূস সরকারেরই এক্সটেনশন!

ইউনূস জমানায় মৌলবাদীদের হামলায় ফরিদপুর জেলা স্কুলের ১৮৫ বছর উদ্‌যাপন ও পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে নগরবাউল জেমসের কনসার্ট পণ্ড হয়ে গিয়েছিল। সেই রাতের সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হলেও কেউ ধরা পড়েনি। একই ঘটনা ঘটছে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের শাসনেও ঘটছে। আর সরকার বলছে জঙ্গী নেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *