ঢাকা: ২৫ টা বছর মাঝখানে কেটে গেছে! দীর্ঘ ২ যুগের বেশি। পরিবার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো, মনের দুঃখ চেপে রেখেছিলো যে ফরিদ আর বেঁচে নেই। কিন্তু তিনি ফিরলেন আবার! সবাই অবাক! আনন্দে চোখে পানি সকলের।

মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে বিদেশে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ ফরিদ। এরপর হারিয়ে যান হঠাৎ করে।

মানবপাচারের শিকার হয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরেছেন। দুর্দশা ঘনিয়ে আসে জীবনে। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে হারিয়েছেন দুই পা।

অবশেষে দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশে ফিরেছেন ফরিদ।

ফরিদের বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়ার মরিচ্যা পালং নাছির পাড়ায়। বৃহস্পতিবার তিনি দেশে ফেরেন।

এরপর ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহায়তায় পরিবারের খোঁজ পান তিনি। ফরিদকে ঢাকায় তুলে দেওয়া হয় তাঁর ছোট ভাই সৈয়দ আলমের কাছে। পরে তাঁকে কক্সবাজারে থাকা তাঁর বৃদ্ধ মা নুরজাহান বেগমের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফরিদের ছোট ভাই সৈয়দ আলম বলেন, ‘আমরা ধরে নিয়েছিলাম, ফরিদ আর বেঁচে নেই। কিন্তু এত বছর পর তাঁকে ফিরে পেয়ে আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। কক্সবাজারে আমাদের বৃদ্ধ মা বড় ছেলের অপেক্ষায় আছেন। আমরা গরিব মানুষ। জানি না কী হবে। তবে আমরা আমাদের ভাইকে নিয়ে থাকব।’

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানায়, প্রায় ২৫ বছর আগে বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান ফরিদ। পরে তারা পৌঁছান পাকিস্তানে। সেখানে জীবিকার সন্ধানে কাজ করার সময় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। চিকিৎসকদের তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে এক মানবপাচারকারী তাকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর পাকিস্তান থেকে ইরান হয়ে তুরস্কে পৌঁছান ফরিদ।

কিন্তু ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।

তুরস্কের সমুদ্রতীরে পানি বিক্রি করে প্রায় ১৪ বছর কাটিয়েছেন তিনি। অনিয়মিত অভিবাসী হিসেবে সেখানে বসবাসের সময় দেশটির পুলিশ তাকে তিনবার আটক করে ক্যাম্পে রাখে।

সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ফরিদও ভাবেননি কোনোদিন আর মাকে পাবেন! কিন্তু ভাগ্যের লেখন কে খণ্ডায়?

গত ১৮ আগস্ট ভোর সোয়া ৫টার দিকে টিকে-৭১২ ফ্লাইটে তুরস্ক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ফরিদ।

দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। নিজের ও বাবা-মায়ের নাম এবং ‘উখিয়া, কক্সবাজার’—এই তথ্যটুকু ছাড়া আর কিছু বলতে পারছিলেন না। অবশেষে সবকিছু হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *