রংপুর: এরপর কার পালা? আর কত হিন্দু নিধন? প্রশাসনের কাছে জিজ্ঞাসা । খুন হয়ে গেলেন হিন্দু শিক্ষকের পরিবারের চার সদস্য।
রংপুর মহানগরের মাছুয়াপাড়ার বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে খুন হয়ে গেছেন। তাঁদের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), তাদের মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৪) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে গণপতির বাসার ভেতর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এসে বাড়ির ভেতর থেকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে।
গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজের বাড়িতেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বারে বসতেন। তাঁর মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী রংপুরের কারমাইকেল কলেজে মাস্টার্সে পড়াশোনা করতেন। আর ছেলে পিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দোতলা বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর স্ত্রী ও কন্যার মরদেহ বাড়ির সিঁড়িতে পড়েছিলো এবং ছেলের মরদেহ একটি কক্ষে পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, মহানগর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা এসে তদন্ত কাজ শুরু করেন। মরদেহগুলো উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তাঁদেরকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে একমাত্র তাঁরা হিন্দু বলে! হিন্দু হয়ে জন্ম হওয়া এই দেশে পাপ।
গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর মেয়ের জামাই বিশ্বনাথ চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমে বলেন, তাঁর কাকাশ্বশুর তাকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি হুমকি পাচ্ছেন। তবে কারা তাকে হুমকি দিচ্ছে, তা বারবার জানতে চাইলেও তিনি কিছু জানাননি। তিনি অত্যন্ত চাপা স্বভাবের মানুষ ছিলেন।
বিশ্বনাথ আরও বলেন,পারিবারিকভাবেও কারও সঙ্গে তাদের কোনোরকম দ্বন্দ্ব ছিল না।
হিন্দু তো এই দেশে খুন হতে হতেই শেষ হয়ে গেলো। যে কয়জন আছে কয়দিন বাঁচতে পারবে দেখতে থাকুক চোখ মেলে সরকার!
