রংপুর: দেশে অব্যাহত হিন্দু নিধন। তারেকের বাংলাদেশের রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকেই খুন করা হলো!
শোনা যাচ্ছে স্ত্রী ও মেয়েকে ধর্ষণ করেই খুন করা হয়েছে। খুন করা হয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাঁর শিশুপুত্রকেও।
রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে খুনের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সংখ্যালঘু হিন্দুদের মধ্যে।
এই ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করছেন লেখক তসলিমা নাসরিন। পুলিশ বলছে, ডাকাতি। এই নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করলেন লেখক।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:
“রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে—অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, তাঁদের মেয়ে আগামী এবং ছোট ছেলে প্রিয়ম। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সম্ভাবনার কথা বলছে।
কিন্তু আমার প্রশ্ন আছে।
ডাকাত ডাকাতি করতে আসে সম্পদ লুট করতে। অস্ত্রের মুখে সাধারণত বাড়ির মানুষ প্রাণ বাঁচাতেই টাকা-পয়সা, গয়নাগাটি যা আছে দিয়ে দেয়।
একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের বাড়িটিকেই বা এমন বড় লুটের লক্ষ্য মনে করার কারণ কী? আজকাল অনেকেই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা বা মূল্যবান গয়নাগাটি ঘরে রাখেন না; রাখেন ব্যাংকে।
তারপরও ধরে নিলাম ডাকাত এসেছিল। ডাকাতরা বাড়ির চারজন মানুষকেই হত্যা করবে কেন? তাঁরা কি ডাকাতিতে বাধা দিয়েছিলেন? বারো বছরের ছেলেটি এমন কী বাধা দিয়েছিল যে তাকেও হত্যা করতে হলো? শুধু সম্পদ লুট করলেই তো ডাকাতদের উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার কথা। তাহলে চারটি প্রাণ নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন”?
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ঘর তছনছ হওয়াই কি ডাকাতির অকাট্য প্রমাণ? নাকি হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করার জন্য ঘর তছনছ করে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল?
আমার সন্দেহ হচ্ছে, এটি নিছক ডাকাতি নয়। পরিবারটি হিন্দু। বাংলাদেশে হিন্দুদের প্রতি দীর্ঘদিনের যে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে জিহাদিদের হিন্দুবিদ্বেষ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল কি না, সেটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
তদন্তের আগেই আমি কাউকে অপরাধী ঘোষণা করছি না। কিন্তু “ডাকাতি” বলে একটি সহজ ব্যাখ্যা দিয়ে যেন চারটি হত্যার আসল কারণ চাপা দেওয়া না হয়।
চারজন মানুষকে কেন হত্যা করা হলো—এই প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দরকার। অপরাধীরা যে-ই হোক, তাদের শনাক্ত করা হোক, গ্রেপ্তার করা হোক, বিচার হোক, কঠিন শাস্তি হোক”।
উল্লেখ্য যারা মারা গিয়েছেন তাঁরা হলেন: গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী (১২) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫)।
শনিবার রাতে ঘর থেকে নিহতদের দেহ উদ্ধার করে পুলিস।
