ঢাকা: রংপুরে যে একই পরিবারের চারজন হিন্দু সদস্যকে খুন করা হয়েছে তারপরেও সরকার বলবে দেশে হিন্দুদের কোনো সমস্যা নেই?
শিক্ষিত, শিক্ষকের ঐ পরিবারটি কার কী ক্ষতি করেছিলো? ইসলামী জঙ্গীরা তাদের হত্যা করেছে, হয়তো এটা বলবেও না সরকার। ইতিমধ্যে পুলিশ বলা শুরু করেছে ডাকাতি। ধামাচাপা দিলে কি মাছ নড়বে না?
এখন এসেছে জামাত! জামাত বিএনপি হচ্ছে এক মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। জামাতের ভূমিকা কি এই দেশে? হিন্দুদের নির্যাতন, হত্যা, নারীদের ধর্ষণ- এইসব আমাদের বাংলাদেশে একটা মানুষও নেই জানে না।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী বাহিনীগুলো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে হিন্দু নারীসহ সামগ্রিক বাঙালি নারীদের ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণ চালিয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মানবাধিকার সংস্থার নথিতে এই অপরাধের বিস্তারিত প্রমাণ রয়েছে।
‘১৯৭১ সালে জামায়াত ও অন্যান্য দলগুলোর কী ভূমিকা ছিল, তা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ। এটা ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত।
‘আল্লাহ ভালো জানেন’ বলে জামায়াতে ইসলামীর দায়মুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তাছাড়া আইনে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের যে সংজ্ঞা বলা হয়েছে, সেখানেও এটা স্পষ্ট যে, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।
একাত্তরে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতনের মতো অসংখ্য মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর যুক্ত থাকা কে অস্বীকার করবে?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি তাদের স্থানীয় সহযোগীরাও সক্রিয় ছিল। এ সহযোগিদের তালিকায় ছিল মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম পার্টি, পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দল। এক জামায়াত ছাড়া বাকি দলগুলো এখন প্রায় অস্তিত্বহীন।
জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহায়ক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে গড়ে ওঠে রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী। এসব বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
আর দেশ চালাতে বিএনপি অক্ষম। যতোই হৈ হল্লা করুক তারা।
এখন আবার জামাত এসেছে মিঠা আলাপ করতে।
রংপুরের স্কুলশিক্ষক ও তার পরিবারকে হত্যার খবরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে বলে আখ্যায়িত করেন।
হাসি পায়! কে কারে কী কয়? কারোই তো চরিত্র ঠিক নেই। সবাই চায় হিন্দু না থাকুক দেশে! মরার পরেও হিন্দুদের নিয়ে দাবার ঘুঁটি খেলছে এরা।
পাঠকদের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘গতরাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন—জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।
গোটা পরিবারকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, বেদনাদায়ক ও লোমহর্ষক।
সম্প্রতি দেশে সামাজিক অপরাধ, খুন-খারাবি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ঢাকায় একজন চিকিৎসকের কাছে ডলারে চাঁদা দাবি এবং পরবর্তীতে তার ওপর হামলা করে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছে। ময়মনসিংহে একজন পশুচিকিৎসকের কাছেও অনুরূপভাবে চাঁদা দাবি করে হামলা করা হয়েছে।
আর সর্বশেষ রংপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তা কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, এই তিনটি ঘটনাসহ অসংখ্য ঘটনা থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জনগণ উদ্বিগ্ন। জনগণ এর সুরাহা চায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্লিপ্ত ভূমিকা জনগণকে শঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে রংপুরের এ ঘটনায় যে দুর্বৃত্তরা এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, দ্রুত তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একটার পর একটা অপরাধ সংঘটিত হয়ে চলেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। আদালতে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা জনগণকে দারুণভাবে হতাশ করছে। এই হতাশা থেকে জনগণকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।
তাই সরকারের ব্যর্থতার দিকে তাকিয়ে না থেকে আমাদের নিজেদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারকে তার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে বাধ্য করা দরকার।
আসুন, সকলে মিলে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অপরাধের হাত থেকে আমাদের দেশের প্রিয় জনগণকে রক্ষা করি। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে এসব অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।’
