ঢাকা: হৈ হৈ রৈ রৈ চাঁদাবাজ গেলো কই? প্রসঙ্গ চাঁদাবাজি। ‌ঘটনাস্থল গুলিস্তান।

রাজধানীর অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম বাণিজ্য কেন্দ্র গুলিস্তান। এর বিভিন্ন মার্কেট ঘিরে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদাবাজদের দাপটে ব্যবসা লাটে উঠছে দোকানদারদের।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাজারো ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর কোলাহলে মুখরিত এই বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থের নেপথ্যে সক্রিয় রয়েছে কথিত ‘দরবেশ চক্র’।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে। বিএনপির বড় বড় নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে উঠেছে এই চাঁদাবাজ চক্র। অথচ এই ব্যাপারে সরকার একদম চুপ। যেন কিছুই জানে না। এই সরকার জনগণের কষ্ট বোঝার না।

৫ই আগস্টের পর সিন্ডিকেট গড়ে তুলে চাঁদাবাজ চক্রটি পরিচালনা করছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিলে।

ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, দোকান চালানোর জন্য নির্ধারিত খরচের বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের।

অর্থ আদায় করা হচ্ছে যেসব খাতে:

মার্কেট পাহারা দেওয়া বা তথাকথিত ব্যবস্থাপনা সুবিধার কথা বলে অর্থ নেয়া হচ্ছে।

নির্দিষ্ট সময় পর পর টাকা দাবি করা হয়, যার পরিমাণও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা থাকে।

সরাসরি হুমকি না দিলেও টাকা না দিলে ব্যবসা পরিচালনায় সূক্ষ্ম প্রশাসনিক ও মানসিক চাপ তৈরি করা হয়। ফলে লোকসান ও ঝামেলা, পরিবার চালাতে না পারার ভয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা নীরবে তা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। উপায় নেই তাদের।

শত শত দোকান থেকে প্রতিদিন উঠানো বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো বৈধ হিসাব বা রসিদ প্রদান করা হয় না।

ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন— যদি এই ফি বৈধ মার্কেট ব্যবস্থাপনার অংশ হয়, তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে না গিয়ে বা রসিদ ছাড়া কোথায় যাচ্ছে এই অর্থ? অর্থপ্রবাহের সঠিক গন্তব্য বের করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভবিষ্যতে ব্যবসার ওপর হামলা বা ক্ষতির আশঙ্কায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে কারও নাম বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *