Oplus_131072

রংপুর : স্বপ্ন ছিলো, স্বপ্ন বুনছিলেন আগামি চক্রবর্তী। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিয়েই মা বাবা ভাইয়ের সাথে একসঙ্গে চিতায় উঠলো দেহ! স্বপ্ন সত্যি হলো না, কপালে সিঁদুর, হাতে শাঁখা পলা আর উঠলো না।

রংপুরে হিন্দু পরিবারটির চিহ্ন শেষ করে দেয়া হয়েছে। বিভৎস হত্যার শিকার হয়েছেন চারজন। অথচ এই ঘটনাটিকে তারেক রহমানের সরকার ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

হিন্দু পরিবারটি একসাথে পঞ্চভূত বিলীন হয়ে গেলো। প্রচণ্ড হিন্দু-বিদ্বেষীর গোষ্ঠী এদের হত্যা করিয়েছে। কেউ কেউ যেনো বলছেন, মারার ধরন দেখে জেএমবির ছায়া দেখা যাচ্ছে।

রংপুরে একটি তালাবদ্ধ বাড়ির ভেতর থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানসহ পরিবারের চার সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিলো মেয়ে আগামি চক্রবর্তীর। দুই পরিবারে চলছিল নতুন জীবন শুরুর প্রস্তুতি। স্বপ্ন ছিল একসাথে ঘর বাঁধার।

কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে নির্মম হত্যাকাণ্ডে থেমে গেল সব। হবু স্ত্রী আগামী চক্রবর্তীকে হারিয়ে শোকাহত অদিত কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি, থাকবো।’ হৃদয়বিদারক এই বার্তায় ফুটে উঠেছে প্রিয় মানুষকে হারানোর অসহায় বেদনা।

তবে এখন আর অদিতের ফেসবুক আইডি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অদিত আরো লিখেছেন, জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেল। গত বুধবারে তারা প্রথম ছবি তুলেছেন দুজন।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী আগামী চক্রবর্তী। পরিবারটিকে ধ্বংস করে দেয়া হলো। পৃথিবী থেকে বিদায় দিয়ে দিলো রক্তখেকোর দল। সেই পাড়াটি শোকে ভেঙে পড়েছে।

এবং এই ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া বা পুলিশের কথাবার্তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ জাগছে। পুলিশ বলে, দুটি ফোন নাকি নষ্ট করা হয়েছে। আর বাকি দুটো ফোন কোথায়? তাঁদের চারজনের চারটা ফোন ছিলো!

রোববার রাতে ‘কারমাইকেল কলেজ ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশনস’ নামের একটি ফেসবুক পেজে আগামী ও অদিতের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবির সাথে অদিতের দেওয়া বার্তা মুহূর্তেই ছুঁয়ে যায় স্বজন ও পরিচিতজনদের হৃদয়। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমার জীবনের শেষ সম্বলটাও শেষ হয়ে গেলো।’

অদিত আরও লেখেন, ‘এটা বুধবারের ছবি। খুব করে বলল সেদিন, “আমরা তো কখনও কাপল পিক তুলি নাই, চলো আজকে তুলি।” চিন্তা করো না আগামী, আমি তোমার সাথে ছিলাম, আছি, থাকবো।’

এই হত্যাকাণ্ডে সরকার ভীষণ গভীর কিছু লুকানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *