ঢাকা: রংপুরের গণপতি চক্রবর্তীকে স্বপরিবারে হত্যার ঘটনাটি নিয়ে মিনিটে মিনিটে রহস্য বের হচ্ছে । সব জায়গায় রহস্য। একটারও সমাধান পাওয়া যায়নি।

এমনকি যে দুজনকে ধরা হয়েছে, তারা যতদূর মনে হচ্ছে কিছু জানেই না। তাদের পরিবারের লোকজন হতবাক হয়ে গেছে, ওরাও জানতো না ওদের ছেলেকে ধরা হয়েছে এই ঘটনায়।

সারা দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলেছে হত্যাকাণ্ডটি। এবং সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ জাগছে। আসল দোষী কারা? তাদের যে আড়ালে রাখা হয়েছে এটা পরিষ্কার।

সিদ্ধার্থ-মুগ্ধকে যে লঘু দোষে আটকে ফেলা হয়েছে এটা প্রায় মৌখিকভাবেই প্রমাণিত!! এই পুরো ঘটনার পিছনে কোনো জঙ্গি বা বাড়ির চাঁদা বিষয়ক সম্পৃক্ততা নেই, এটা প্রমাণ করতে পারবে পুলিশ?!

পুলিশের ব্রিফিং অনুযায়ী, ভোররাতে গণপতি স্যার ছাদে উঠেন, সেখানে ইয়াবা খেতে দেখেন দুইজনকে, তারপর ধ্বস্তাধস্তি করে জাস্ট গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়, যেই শব্দ শুনে মা-মেয়ে উঠে আসে।

তো এতোক্ষণ ধরে এতো শব্দ হচ্ছে, সেই শব্দ আশেপাশে কেউ শুনলো না? সাউন্ড প্রুফ স্টাইলে খোলা ছাদে ধস্তাধস্তি করছে নাকি? এমনকি মা-মেয়ে এই ঘটনা দেখে কোনো চিৎকার চেঁচামেচি করে নাই!? কেউ কোনো সাড়া শব্দ পেলো না আশেপাশে!! প্রায় সবগুলো বিল্ডিংই তো গায়ে ঘেঁষা, কেউ কোনো শব্দ পেলো না!!?

সোশ্যাল মিডিয়ায় গণপতি স্যারের মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর একটা চ্যাটিং স্ক্রিনশট দেখা যাচ্ছে, সেখানে তিনি তার ফ্রেন্ড সার্কেল গ্রুপে শুক্রবার ভোর ৫টা ৫০মিনিটে টেক্সট করেন, সারারাত ধরে শুধুমাত্র তাদের বাড়িতেই কারেন্ট নাই। যেটার কারণে জেগে আছেন সারারাত।

কিন্তু পুলিশের ব্রিফিং অনুযায়ী তো তাদেরকে মারা হয়েছে রাতের বেলাতেই!!? এবং তাদের ফোন বালতির ডিটারজেন্ট দেওয়া পানিতে পাওয়া যায়!! তাহলে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে টেক্সট আসলো কিভাবে? বাড়িতে চারটা ফোন, আরো দুটো ফোন কোথায়?

আর ইলেক্ট্রিসিটির লাইন কাটলো কে?! কেন?

তারপর পুলিশের “আবেগাপ্লুত” ব্রিফিংয়ে বলা হয়, হত্যার পর সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ জুমার নামাজের সময় রাস্তা খালি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে বসেছিলো ঘরের ভেতর, গোসল করে, শসা খায়, খেজুর খায়!! মছুয়াপাড়ার ওই পুরো এলাকাটা প্রায় হিন্দু অধ্যুষিত বলা যায়!! সেখানে কার নামাজের যাওয়ার জন্য ওরা অপেক্ষা করছিলো? ওই এলাকায় কি হিন্দুরাও নামাজে যায় নাকি?

উক্ত এলাকায় তো সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, যদিও বাংলাদেশ পুলিশ শার্লক হোমসের মতো কোনো সিসিটিভি ফুটেজ ছাড়াই ক্রিমিনাল ধরে ফেলেছে!

মুগ্ধ’র মা এবং সিদ্ধার্থের মা-বাবা দুইজনই বলছে তাদের সন্তান নেশা করেনি কখনোই!! তর্কের খাতিরে তবুও ধরে নিলাম তারা ইয়াবা খায়!

কিন্তু পাশের নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ে কেন ওরা ইয়াবা খেলো না? দেখা গেছে, ওই বিল্ডিংয়ে যথেষ্ট জায়গা থাকার পরেও গণপতি বাবুর ছাদে কেন আসতে হলো ওদের!?

এখন তো পোশাক নিয়েও গণ্ডগোল তৈরি হয়েছে!

এক তদন্তকারী কর্মকর্তার শার্টের সাথে সিদ্ধার্থের শার্ট মিলে যাওয়া! ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা বলছেন এই একইরকম শার্ট রংপুরে নাকি ২০০ মানুষের কাছে আছে, এবং এটা তিনি আড়ং থেকে কিনেছেন!

অথচ সিদ্ধার্থের বাবা বলেছেন, যখন তিনি নিজের ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছিলেন, তখন তার গায়ে ছিলো গেঞ্জি! ঘি রঙের গেঞ্জি ছিলো? তাহলে ঘটনাটা কি হলো!?

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকালে আসামির পরনের শার্টের ব্যাপারে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সপরিবারে গণপতি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটকের সময় সিদ্ধার্থ দাসের গায়ে শুধু একটি কালো ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। ওই নকশার কোনো শার্ট সিদ্ধার্থের কখনোই ছিল না।

বিনয় দাস বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘শনিবার ( ২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে পুলিশসহ অনেক লোক জড়ো হন। এরপর ভোররাতে পুলিশ আমার বাড়িতে এসে সিদ্ধার্থের খোঁজ করে। আমি ওকে কাকার বাড়ি থেকে ঘুম থেকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিই। তখন তার গায়ে একটি গেঞ্জি ছিল। পরে পুলিশ যখন তাকে সাংবাদিকদের সামনে আনলো তখন দেখেছি গায়ে শার্ট। ওই শার্ট কার? ওই ধরনের শার্ট কখনোই তাকে পরতে দেখি নাই।

’সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাসও সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘রোববার ভোরে পুলিশ যখন আমার ভাইকে আটক করেছিল, তখন তার গায়ে একটি ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। ওই ধরনের কোনও শার্ট আমার ভাইয়ের কখনোই ছিল না। আমার ভাই কীভাবে ওই শার্টটি পরলো, তা আমরা জানি না। এ বিষয়ে পুলিশই ভালো বলতে পারবে।’ এবার কি ব্যাখ্যা দেবে পুলিশ?

আর বিনয় বাবুর কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে না তিনি কোনো মিথ্যা কথা বলছেন।

পার্থ দাসের প্রশ্ন—“আমার ভাই কীভাবে ওই শার্টটি পরলো, তা আমরা জানি না। এ বিষয়ে পুলিশই ভালো বলতে পারবে।”

কে তাকে শার্টটি পরিয়ে দিল? পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার আগে ও পরে সিদ্ধার্থের পোশাকের এই পরিবর্তনের কারণ কী? এটি কি নিছক পোশাক পরিবর্তনের ঘটনা, নাকি এর পেছনে আরও কোনো ব্যাখ্যা রয়েছে?

সিদ্ধার্থের বাবা নিজেই বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্তে ছেলে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি তার শাস্তি মেনে নেবেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি পুরো বিষয়টির আরও তদন্তও চান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *