রংপুর: গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী এবং মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এবং ১২ বছরের শিশুর যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের মুখমণ্ডল দাহ্য পদার্থ দিয়ে ঝলসে দেওয়ার মতো বর্বরতা একটি পরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ডেরই ইঙ্গিত দেয়।

এটা নিছক হত্যাকাণ্ড নয়- এটি ধর্মীয় উগ্রবাদের ভয়ংকর ছাপ বহন করে। আর সেই উগ্রবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ। এটা আমরা বলছি না সারা দেশ বলছে। এবং তার নাটকে এটা স্পষ্ট।

মর্গের ডোমের দাবি, আগামী চক্রবর্তী ও তার মায়ের শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

মর্গের এক ডোমের বক্তব্য সামনে এসেছে । রংপুর মেডিকেল কলেজের সেই ডোমের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহত গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধ’র্ষ’’’ণে’র আলামত দেখতে পেয়েছিলেন তিনি।

এমনকি নিহত মায়ের শরীরেও ধর্ষণের আলামত এবং বীর্যের উপস্থিতি দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন ওই ডোম।

ডোমের দাবি, বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তিনি তাঁকে ওই নমুনা সংরক্ষণ করতে বলেন। ডোমের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মর্গে মরদেহ কাটার কাজ করছেন।

তাঁর দাবি, চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে দেখতে বলেন কোনো বীর্য পাওয়া যায় কি না। পরে তিনি বীর্যের মতো একটি নমুনা দেখতে পান এবং চিকিৎসকের নির্দেশে সেটি সংরক্ষণ করেন।

ডোম আরও দাবি করেন, বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করতে তাঁকে বলা হয়েছিল।
কিন্তু এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

কারণ পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছিল, নিহত দুই নারীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ডোমের কথিত বক্তব্যে উঠে আসছে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দাবি।
তাহলে প্রশ্ন—দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে এত বড় পার্থক্য কেন?

রংপুরের মানুষ জানতে চায়—পুলিশ যে গল্প বলছে, সেটিই কি পুরো সত্য? নাকি চার খুনের আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও ভয়াবহ কোনো ঘটনা?

ডোম যতীন রায়ের ভিডিওটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, ধর্ষণের আশঙ্কায় সংগ্রহ করা আলামত পরীক্ষার পর প্রতিবেদনে কোনো স্পার্ম পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবুল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ ছিল। ধর্ষণ কি না, স্পার্ম আছে কি না। সোয়াবটাকে নিতে বলা হয়েছে। তখন সে ওটা নিয়েছে। সেখান থেকে ফিসারের মতো আসছে। তাঁর কাছে এটা এরকম মনে হয়েছে। কিন্তু আমরা আলামত সংগ্রহ করে মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে পাঠিয়েছিলাম। সেটার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। সেখানে কোনো স্পার্ম পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন রেডি।’

এদিকে, এসেছে শার্টের বিষয়। সবমিলিয়ে হযবরল একটা বিষয় হয়েছে। তদন্ত সুষ্ঠুভাবে হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

আরেকদিকে, রংপুরের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখন আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রকৃত আসামিদের আড়াল করতে তড়িঘড়ি করে একটি কল্পকাহিনি দাঁড় করানো হয়েছিল।

তারপর তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডে জঙ্গি ও ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা স্পষ্ট।

ঘটনাটির ভয়াবহতা ও নৃশংসতার ধরন কোনো সাধারণ অপরাধীর কাজের সঙ্গে মেলে না। বিশ্লেষকরা এই খুনে নব্য জেএমবির ছায়া দেখছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *