রংপুর: রংপুরের পীরগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ মারা গেছেন। এক এক করে চলে যাচ্ছেন সবাই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পরে আসনটি ছেড়ে দিলে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবুল কালাম আজাদ।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে দেশে না থেকেও শোক জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফেসবুকে আওয়ামী লীগের পেইজে শেখ হাসিনার শোকবার্তাটি দেয়া হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা আবুল কালাম আজাদ গতকাল ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন” (ইনা লিল্লাহি … রাজিউন)।

“তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গণমানুষের কল্যাণে নিবেদিত এই জননন্দিত রাজনীতিকের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি”।

আরো বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মী হিসেবে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও উদার গণতান্ত্রিক ব্যক্তিত্ব।

একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদের মতো মহৎপ্রাণ রাজনীতিকের অভাব পূরণ হবার নয়। দেশ ও মানুষের এই চরম প্রতিকূল সময়ে তাঁর মতো গণমানুষের নেতার আজকে খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। তাঁর মৃত্যুতে আমি একজন অকৃত্রিম সুহৃদ ও সহযোদ্ধাকে হারালাম, দেশ ও দল হারালো একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিককে।

প্রয়াত এই রাজনীতিক স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা, অসহযোগ থেকে মুক্তির সংগ্রাম এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছিলেন অকুতোভয় সহযোদ্ধা।

সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি পীরগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি রংপুর-পীরগঞ্জের মানুষের অত্যন্ত আপনজন হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন।

দেশ ও মানুষের জন্য তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস”।

শেখ হাসিনা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। শোকবার্তাটি শেষ করেন জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে।

উল্লেখযোগ্য যে, আবুল কালাম আজাদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে বুধবার সকাল থেকেই পীরগঞ্জ সরকারি হাই স্কুল মাঠে জড়ো হয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় পীরগঞ্জ সরকারি হাই স্কুল মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল ৮টায় উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হবে। রাত ৮টায় বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *