ঢাকা: ২০০৪ সালের জজ মিয়া কিংবা শৈবাল সাহা পার্থর সেই নৃশংস অভিজ্ঞতার কথা মনে আছে তো?

ঠিক এই নাটকটার হচ্ছে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডে!

সম্প্রতি রংপুর চার হত্যা মামলার তদন্তের ধারা সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। এছাড়া আর কিছু নয়।

সব আলামত মুছে ফেলা হচ্ছে। আসল খুনীকে যেন ধরতে না পারে তাই এইসব করা হচ্ছে।

রংপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলেছেন এক অভিযুক্তের স্বজনরা।

তবে পুলিশের দাবি, ছাদ ধুয়ে ফেলার জন্য নয়, বরং ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হওয়ায় ট্যাংক উপচে পানি পড়ে ছাদ ভিজে যায়।

ভুল করে মোটরের সুইচে হাত যাবে কেন? আর হাত অন্য জায়গায় যায় না কেন?

হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের স্বজনরা দাবি করেন, নিহতের বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে।

ছাদ থেকে পানি পড়ার শব্দে স্থানীয়রা ছুটে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা লুকোচুরি করতে থাকেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে সংবাদকর্মীরা ছুটে যান।

পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর আব্দুল হালিম সাংবাদিকেদর জানান, ‘আমি ক্রাইম সিন ঘরের ভেতর ঢুকেছিলাম বৈদ্যুতিক বাতির সুইচ অন করে দেওয়ার জন্য কিন্তু ভুল করে পানির লাইনের সুইচ অন করে দিয়েছে। এ কারনে ছাদের ওপর পানি ট্যাঙ্কি ভরাট হয়ে পানি ওভার ফ্লো হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়। আমি পরবর্তিতে পানির লাইনের সুইচটি বন্ধ করে দেই।’

‘ক্রাইম সিন’ বাড়ীর ভেতর গিয়ে বৈদ্যুতিক সংযোগের সুইচ অন করার জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েছেন কিনা প্রশ্নে তিনি কোন উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস জানান, সন্ধ্যার পর বাড়ির লাইট অফ ছিল। তিনি দেখেন বাড়ির ছাদ থেকে পানি পড়ছে। বিষয়টি দায়িত্বরত পুলিশকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, ভুলের সুইচ চাপায় মোটর চালু হয়ে ট্যাংক উপচে পানি পড়েছে।

এ সময় পুলিশের ওই সদস্যরা তাঁকে এটি অন্য কাউকে না জানাতে অনুরোধ করেন। পরে তাঁর কাছে জানতে চান তিনি কে হন?

পার্থ ওই পুলিশদের জানান, ‘আমি খুনির ভাই।’ এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলেন।

গ্রেফতার যুবক সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘বাড়ীটির ছাদে খুনিদের হাতের ছাপ কিংবা অন্য আলামত রয়েছে। এটা নষ্ট করতেই পুলিশ রাতের আঁধারে ছাদে পানি ভরাট করেছে। আমার ভাই খুনি নয়। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। গ্রেফতারের পর আমরা সিদ্ধার্থের সাথে দেখা করতে পারিনি, কথা বলতে পারিনি। সিদ্ধার্থকে সাংবাদিকদের সাথেও কথা বলতে দেয়নি।’

মামলার দায়িত্বে থাকা মহানগর গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ জানায়, বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে কেউ একজন লাইটের সুইচের পরিবর্তে মোটরের সুইচ দেয়ায় পানি উপচে পড়েছে।

কী সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়ে চলেছেন এক একজন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এই ঘটনা দেখা যায়।

অপরাধের আলামত ধোয়ার এই তাগিদ কিসের?

সেটা কি কোনো অলৌকিক শব্দহীন মোটর ছিল যে, ছাদ উপচে পানি নিচে না পড়া পর্যন্ত তিনি টেরই পেলেন না?

কোন বাড়ির পানির ট্যাংকের ওভারফ্লো পাইপ ছাদের ভেতরের দিকে মুখ করা থাকে, যাতে পানি ট্যাংকি উপচে সরাসরি ছাদেই পড়ে?

এর আগে পুলিশ বলেছে সি সি ক্যামেরা থেকে বাঁচতে নাকি ওই বাড়ির বিদ্যৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিলো। অথচ ওই বাড়ির বিদ্যুৎ মিস্ত্রি দেখলো লাইন সরাসরি বৈদ্যুতিক খুটি থেকেই বিচ্ছিন্ন।

এরকম অনেক অসংগতি দেখা যাচ্ছে।
অপরাধের আলামত এভাবে নষ্ট করার পেছনে আসল উদ্দেশ্যটা কী?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *