ঢাকা: ভয়াবহ একটা পরিস্থিতি মনে হয় তৈরি হতে যাচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত জঙ্গীদের কার্যকলাপ দেখতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে। শান্তি আছে আর দেশটার মধ্যে ৫ আগস্টের পর?
বাংলাদেশে আল কায়দার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তথা ভারতের অন্যতম ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি মাওলানা ইকরামুল হক ওরফে আবু তালহা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ২২ মাস ধরে এই শীর্ষ আল কায়দা নেতা বাংলাদেশে আত্মগোপন করে রয়েছে বলে জানান তিনি।
তাঁর আরও অভিযোগ, বর্তমান শাসক দল বিএনপি বা স্থানীয় প্রশাসন তাকে চিহ্নিত করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।আন্তর্জাতিক ও সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মাওলানা ইকরামুল হক ওরফে আবু তালহা বর্তমানে বাংলাদেশে সক্রিয় হয়েছে যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার গোপন নেটওয়ার্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
নামটা শুনে মনে হতে পারে ধার্মিক ব্যক্তি, কিন্তু কে যে ধার্মিক, কে যে জঙ্গী তা এখন আর আলাদা করা যায় না।
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সার্বিক মদদে ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা (AQIS)-কে দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্র এবং এখানে স্থায়ী আস্তানা, ছদ্মবেশী নেটওয়ার্ক তৈরি করার কাজ চলমান আছে।
জামাত খুব বাড় বেড়েছে। ঠিক ৭১ এর মতো। দেখতেই তো পাচ্ছেন দেশে নিরীহ মানুষদের কীভাবে হত্যা করা হচ্ছে! মানুষ আতঙ্কিত! রাতে ঘুমটা আসে না। ঘুমের মধ্যেই কোনদিন কার খুন হবে কেউ জানে না!
৭১ এর যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামাত এবং তার সহযোগী কয়েকটি সংগঠন বাংলাদেশ অংশে এই জঙ্গীদের সহযোগিতা করছে।
২৪ এর ৫ আগস্টে ম্যাজিক করে শীর্ষ জঙ্গীদের ছেড়ে দেয়া হয় কারাগার থেকে। তারা যেন দেশে ধুম মাচাতে পারে।
বাংলাদেশে নানা সময়ে জঙ্গীবাদে সম্পৃক্ততার কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (CTTC) ইউনিট ২০২৩ সালের ৩০ মে ঢাকার মাদারটেক এলাকা থেকে ইকরামুল এবং তার স্ত্রী ফারিয়া আফরিনকে গ্রেপ্তার করে।
১৬ দিনের রিমাণ্ড শেষে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর ইউনুস-জামাত সরকারের মদদে এবং নির্দেশে ইকরাম আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যায় এবং সাথে সাথে আল কায়েদার কার্যক্রম সক্রিয় করে।
এই তথ্য ভারতের জন্যও যথেষ্ট আশঙ্কার। কারণ, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদীদের কার্যকলাপে নজরদারি কমিটির রিপোর্ট বলছে, ‘বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আল কায়েদা- উপমহাদেশ তাদের সংগঠন বিস্তারের চেষ্টা করছে।’ চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ভারতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘‘ইক্রামুল ওরফে আবু তালাহ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (এনআইএ) মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছে। এ দেশে অন্তত ১০টা জঙ্গি কার্যকলাপ সংক্রান্ত মামলায় সে অভিযুক্ত।’’
ময়মনসিংহের বাসিন্দা ইক্রামুল বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য ২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে যায়। সেখানেই আল কায়েদার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয় এবং পরবর্তী কালে উপমহাদেশে আল কায়েদা ইন সাবকন্টিনেন্ট-এর (আকিস) নিয়োগ বা ‘দাওয়া’ বিভাগের প্রধান হয়ে ওঠে।
কোচবিহারের দিনহাটার এক দম্পতিকে বাবা-মা পরিচয় দিয়ে ভারতীয় নথি থেকে শুরু করে ভারতীয় পাসপোর্ট পর্যন্ত বানিয়ে নেয়।
এনআইএ-র তদন্ত রিপোর্ট বলছে, ৩৩ বছর বয়সি ইক্রামুল পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু’বছর ছিলো। এবং ভারতেরমধ্যপ্রদেশ থেকে শুরু করে গুজরাত পর্যন্ত অনেক স্লিপার সেল এবং মডিউল তৈরি করে।
ভারতের গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী , মডিউলের কয়েক জনকে গ্রেফতার করার পরে ২০২২ সালে চোরাপথে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ইক্রামুল।
এবং তারপরেই সস্ত্রীক গ্রেফতার করা হয় তাকে।
তারপর আবার ছাড়া পেয়ে যায় শেখ হাসিনার পতনের পর। এখন শুরু করেছে নাচন।
