সিলেট: অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো বিয়ানীবাজারের সেই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ! কিন্তু এটাই কি শেষ…? হয়তো এটাই শেষ! মৌলবাদ, জঙ্গী, কট্টরপন্থীদের থাবা এই দেশে খুব ভালোমতো পড়েছে, তাই হয়তো এবারই শেষ।
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, তীব্র অনিশ্চয়তা আর টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ২৮ আগস্ট সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে সাড়ম্বরে সম্পন্ন হলো ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতা। নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন অসংখ্য মানুষ।
সুনাই নদীতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবছর নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি আর থাকবে না। জীবিত থাকবে না।
দেখা যায়, নৌকাবাইচ দেখতে জুমার নামাজের পর থেকে সুনাই নদীর দুপাশে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকার প্রতিযোগীরা আসেন।
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীও নৌকাবাইচ দেখতে যান।
সিলেটের বিয়ানীবাজারের লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজ গত প্রায় তিন দশক (৩০ বছর) ধরে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
তবে এবার ‘তৌহিদী জনতা’র হুমকির ফলে আয়োজন নিয়ে চরম সংশয় তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু দেশব্যাপী প্রতিবাদ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর মধ্যস্থতায় অবশেষে জটিলতার অবসান ঘটে। এবার যদিও নৌকাবাইচ হয়েছে, আগামিকাল থেকে হবে কিনা সন্দেহ আছে।
কারণ সমঝোতা করে এবারের নৌকাবাইচ হয়েছে।
সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল—”এ বছর আয়োজন করা গেলেও, আগামীতে সুনাই নদীতে আর কখনোই নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে না।”
হয়তো এটাই শেষবার, তাই এবার আগের সব বছরের রেকর্ড ভেঙে নদীর দুই পাড়ে বসেছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া বাঁধভাঙা জোয়ার!
গোলাপগঞ্জ ও বড়লেখা থেকে আসা ‘স্বাধীন বাংলা’, ‘বাঘ’ এবং ‘পাগলা নাও’-এর বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখরিত ছিল পুরো সুনাই নদী। বিদায়বেলায় আমাদের এই হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতি যেন এক দীর্ঘশ্বাস রেখে গেল।
