চট্টগ্রাম: শেখের বেটির নাম শুনলেই ওদের পরাণের পানি শুকিয়ে যায়। বাস্তব মানতে পারে না। পারে না বলেই এই গতি।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ‘শেখের বেটি আয়তাছে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘কোন নেত্রী আছে, সেই নেত্রী—শেখ হাসিনা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ মানি না, মানবো না’ এবং ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’—এই স্লোগান দিয়ে মিছিল করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

মামলায় এজাহারনামীয় ৭৮ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

হয়তো মিছিলে এতজন ছিলোই না। এমন অজ্ঞাতনামা বলে বলে কারাগার ভর্তি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীতে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আনোয়ারা থানায় মোহাম্মদ হাসান (৫১) নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শোলকাটা এলাকায় বাঁশখালী-চট্টগ্রাম সড়কের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন।

নাশকতা নেই, জঙ্গীপনা নেই, বোমা নেই তারপরেও মামলা। স্লোগানেই মামলা।

এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে ‘শেখের বেটি আয়তাছে’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। এই সময় মিছিলকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মিছিলটির নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমানকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে।

বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, মিছিলের খবর পেয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবারের মিছিলের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় আব্দুর রহিম ও সাইমন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *