ঢাকা: অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। আদালতের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন গ্রেপ্তার আসামি সিদ্ধার্থ দাস।
তবে এইসবই যে সাজানো গল্প, তা দেশবাসী বুঝতে পারছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে সিদ্ধার্থের দেওয়া জবানবন্দির তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।
বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি জনসমক্ষে পাঠ করার কারণে বাংলাদেশ পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন, আদালত অবমাননার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারেন।
এই ঘটনা অভিযুক্ত ব্যক্তির সুষ্ঠু বিচারের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
এইসব কি মাবুদ সাহেব জানেন না?
রংপুরে সংঘটিত চার খুনের ঘটনা নিয়ে কী যে শুরু হয়েছে দেশে! তদন্তের স্বচ্ছতা নেই। যে যা খুশি করছে।
রংপুরের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ—প্রতিষ্ঠিত আইন ও বিধিমালার প্রতি ন্যূনতম তোয়াক্কা না করে এবং বিস্ময়করভাবে—মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামের দুই অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।
গত ২৭ আগস্ট মাবুদ প্রকাশ্যে পুরো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটি পড়ে শোনান। এটি এমন একটি কাজ যার জন্য কঠোর আইনি শাস্তি ও বিধিনিষেধের বিধান রয়েছে।
বিষয়টি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রফিকুল ইসলামের গুরুতর অসদাচরণেরও ইঙ্গিত দেয়; কারণ আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, তিনিই সিলগালা করা খামে থাকা ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি মাবুদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।
স্বীকারোক্তির হুবহু বয়ান জনসমক্ষে প্রকাশ করলে কী হতে পারে?
সাক্ষ্যগত গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হওয়া (স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের ঝুঁকি): জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ: ১৬৪ ধারার অধীনে দেওয়া স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং পুলিশের প্রভাবমুক্ত হয়ে দেওয়া আবশ্যক।
যদি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জনসমক্ষে সেই স্বীকারোক্তি পড়ে শোনান বা তা প্রদর্শন করেন, তবে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেখাতে পারেন যে, ওই জবানবন্দিটি আগে থেকে সাজানো, নাটকীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত অথবা পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন জোরপূর্বক আদায় করা হয়েছিল।
✓ অভিযুক্ত ব্যক্তি সহজেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারেন এবং দাবি করতে পারেন যে পুলিশ তাকে ওই জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছিল। যদিও স্বতন্ত্র সাক্ষ্য-প্রমাণের সমর্থন থাকলে অনেক সময় প্রত্যাহার করা স্বীকারোক্তিও গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবুও জনসমক্ষে তা পড়ে শোনানোর ফলে মূল সাক্ষ্য হিসেবে এর গুরুত্ব বা গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।
✓ গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়।
অতীতে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্ট বিভাগ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বারবার সতর্ক করেছে যেন তারা সন্দেহভাজনদের জনসমক্ষে প্রদর্শন না করে কিংবা অপ্রমাণিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ না করে।
✓ বিচার প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব: আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আগেই তথ্য প্রকাশ করাটা এক ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর জন্ম দেয়।
