ঢাকা: রংপুরে একই পরিবারের চারজন মানুষ নির্মমভাবে খুন হলেন। এই হত্যাকাণ্ড এত সোজা নয়। যত দিন যাচ্ছে, রহস্য আরো বাড়ছে।
হত্যাকাণ্ড ঘিরে বেশ কতগুলো নামের তালিকা বের হয়েছে, কিন্তু তাদের নিয়ে পুলিশ নীরব কেন?
রাজনৈতিক যোগাযোগ, পুলিশি যোগাযোগ এবং গুরুতর অভিযোগ সামনে থাকার পরও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না কেন?
১৯ আগস্ট রংপুরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় তদন্তে গুরুতর গাফিলতির (ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত) কারণে বাংলাদেশ পুলিশ কাঠগড়ায়, আর ঠিক তখনই তারা একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একজন নারী গৃহশিক্ষিকা এবং ক্ষমতাসীন দলের এক রাজনীতিকের—যিনি কথিত চাঁদাবাজদের একটি চক্রকে প্রশ্রয় দেন—ভূমিকা খতিয়ে দেখার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।
এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই চার খুনের রহস্য সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো ‘ইভা রহমান’ নামের এক নারীর অবস্থান শনাক্ত করা।
ইভা রহমানের নাম শীর্ষ আলোচনার বিষয়বস্তু! কে এই ইভা রহমান? জানাচ্ছি।
এছাড়া অন্য তিনজন সম্ভাব্য সন্দেহভাজন—মেরিল সুমন, ধীমান ঠাকুর ও প্রাণ ভট্টাচার্য—জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলে তদন্তকারীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন।
জানা গিয়েছে, মেরিল সুমন এবং ‘গৃহশিক্ষিকা’ ইভা রহমান ইতিমধ্যেই আত্মগোপন করেছেন। মাছুয়াপাড়ার ‘ইভা ভাবি’ ২২ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না খুনের ঘটনার পর।
কে এই ইভা?
গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এবং আয়ুষ চক্রবর্তীর প্রাইভেট টিচার ইভার সাথে রংপুর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। ইভা গণপতি পরিবারের প্রতিবেশী।
ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীই ইভা ও প্রীতিলতার সাথে মাবুদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ডটি আসলে একটা সূত্রে হয়নি এটা একদম পরিষ্কার। এর সাথে বহু কিছু জড়িত আছে।
এবং ইভা রহমানকে কেন ২২ আগস্ট থেকে দেখা যাচ্ছে না সেটা একটা বড় প্রশ্ন!
এছাড়াও উঠে আসছে শামসুজ্জামান সামুর নাম। রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের গতিপথ প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে।
কে ধীমান ঠাকুর?
নিজেকে নতুন বিএনপি সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান সামুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ। এলাকায় তাঁর যথেষ্ট প্রভাব থাকার কথাও উঠে এসেছে।
প্রাণ ভট্টাচার্য পরান কে?
ধীমান ঠাকুরের ছেলে। গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি নির্মাণের সময় তাঁর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। আগামী চক্রবর্তীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে, যে প্রস্তাবে গণপতি রাজি হননি।
মাহবুবুর রহমান হচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক এমপি।
আশফাক সিফাত কে?
মাহবুবুর রহমানের ছেলে, পেশায় ব্যাংকার। আগামী চক্রবর্তীকে হয়রানির ঘটনায় তাঁর প্ররোচনার অভিযোগ উঠেছে।
মেরিল সুমন:
তাঁকে ঘিরেও গুরুতর সন্দেহ ও অভিযোগ সামনে এসেছে। গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামীকে হয়রানির অভিযোগে যে দলটির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে তাঁর নাম এসেছে।
এতগুলো নাম উঠে আসছে, এতগুলো যোগসূত্র তাহলে তাদের সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না কেন?
কেউ বিএনপি নেতা, কেউ জামায়াত নেতার ছেলে, কেউ প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ, আবার কারও সঙ্গে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার যোগাযোগের অভিযোগ!
