ঢাকা: বিটিভির যে লোগোটির সাথে জড়িয়ে আছে বরেন্য শিল্পী মুস্তাফা মানোয়ার আর কামরুল হাসানের নান্দনিক কাজ, সেটি হঠাৎ করেই আজ পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে!

পরিবর্তন তো নয়, পরিবর্তনের নামে ওরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী কিছু একটা করবে। এবং হাজার হাজার ডকুমেন্টে নতুন লোগো বসানোর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেবে। যেমন আরো অনেক কাজ হয়েছে।

৭১ এর সব অর্জন ধুলায় মিশিয়ে দিচ্ছে রাজাকার, পাকিস্তানপন্থীরা। সবকিছু নষ্টদের দখলে যাচ্ছে!

বিটিভির লোগো বদলালেই কি বদলে যাবে বিটিভি? বদলে যাবে একাত্তর?

লোগো হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান পরিচয়ের সংক্ষিপ্ততম রূপ, একটি প্রতীক, যার দিকে তাকালেই প্রতিষ্ঠানটিকে চেনা যায়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চরিত্র, কাজের ধরন, প্রযুক্তি বা অনেক কিছু পরিবর্তন হতে পারে, সেটা অস্বীকারের কিছু নেই। আবার লোগোও কখনো কখনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

কিন্তু লোগো পরিবর্তনের আগে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হলো-কেন? বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভির ক্ষেত্রে সেই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

জনগণ জানতে চায় ‘কেন’?

রবিবার রাতে বিটিভির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে বলা হয়েছে-‘ফিরছে নতুন রূপে বিটিভি।’ নতুন লোগো তৈরির জন্য সবার কাছ থেকে আইডিয়া ও ডিজাইন চাওয়া হয়েছে। জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

বিটিভির বর্তমান লোগোর সমস্যা কোথায়?
এটি কি প্রযুক্তিগতভাবে অচল? নাকি প্রযুক্তিতে বিরাট সমস্যা করছে?

জনগণের জানতে চাওয়ার অধিকার আছে।
বিটিভির লোগো কেবল একটি গ্রাফিক ডিজাইন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক মাস পর যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনের। সরকারি এই টেলিভিশন সংক্ষেপে বিটিভি নামে পরিচিত।

সেই লোগোতেই পরিবর্তন আনতে চলেছে টেলিভিশনটি।

বিটিভির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও বিজ্ঞাপনটিতে বলা হয়েছে, ‘ফিরছে নতুন রূপে বিটিভি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোগো নির্মাণের গৌরবোজ্জ্বল অংশীদার হতে পারেন আপনিও। আপনার আইডিয়া অথবা লোগো ডিজাইন পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়— logo@btv.gov.bd । জমা দেওয়ার শেষ তারিখ—১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।’

উল্লেখযোগ্য যে, বিটিভির যাত্রা শুরু বাংলাদেশের জন্মেরও আগে, সালটা ১৯৬৪, ২৫ ডিসেম্বর। তবে সে সময় টেলিভিশনটির নাম বিটিভি ছিল না।

ঢাকায় তৎকালীন ডিআইটি ভবনে (বর্তমান রাজউক ভবন) পাইলট প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু হয় টেলিভিশনটির। এটি সেসময় পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশনের (পিটিভি) একটি শাখা ছিলো।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির এক আদেশে চ্যানেলটিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রূপান্তর করা হয়। তখন নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

বিটিভি চ্যানেলের লোগো ডিজাইন করেছিলেন শিল্পী ইমদাদ হোসেন। এবং সেই লোগো ডিজাইনে ভূমিকা ছিল স্বনামধন্য শিল্পী কামরুল হাসান ও মুস্তাফা মনোয়ার এবং আর্ট ডিজাইনার মহিউদ্দিন ফারুকের।

বিটিভির লোগোতে যে লাল-সবুজ, যে উদীয়মান সূর্যের ইঙ্গিত-তা কি শুধু একটি ডিজাইন? এটি স্বাধীন বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট সময়ের দৃশ্যমান স্মৃতি। এটিকেই পরিবর্তন করা হবে!

জাতীয় পতাকার রং, উদীয়মান সূর্যের প্রতীকী ভাষা, স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত এই লোগোটি কি এখন কারও কারও গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *