ঢাকা: ফুটবল বিশ্বের এক সোনালী এবং অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটলো।
আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সি চিরতরে তুলে রাখার ঘোষণা দিয়ে দিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল আন্দ্রেস মেসি৷
একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অফিসিয়াল অবসরের সিদ্ধান্তটি বিশ্ববাসীকে জানান৷
ইনস্টাগ্রামে নিজের হাতে লেখা ডায়েরির তিনটি পৃষ্ঠার ছবি শেয়ারের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর এই অবসরের সিদ্ধান্তে একটি যুগের অবসান হল।
ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মেসি ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ট্রফি এনে দিয়েছিলেন এবং ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন, কিন্তু স্পেনের কাছে দলটি পরাজিত হয়।
ইন্সটাগ্রামে মেসি লিখেছেন, “ফাইনালের পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে এবং অনেক চিন্তাভাবনার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে, আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি। এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত যা আমাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে, তবে আমি বুঝতে পেরেছি যে এটাই সঠিক সময়।
আমি হলফ করে বলতে পারি, আমি সবসময়ই নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি – গত কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি শুধু তখনই নয়, তার আগেও নিজের সর্বোচ্চ দিয়েছি। এই জার্সির জন্য আমি সবসময় লড়াই করেছি এবং সর্বস্ব দিয়েছি; চেয়েছি ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে আপনাদের গর্বিত করতে।“
তিনি আরও লেখেন, “সময় ফুরিয়ে আসছে এবং জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় সমাপ্তির পথে। এই অধ্যায়টি আমাকে সবচেয়ে কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলের অংশ হওয়াটাকে আমি সবসময় ভালোবেসেছি এবং ভবিষ্যতেও ভালোবাসব। আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু দিয়েছি, আর দেওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাছাড়া, অনেক প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যাদের এখানে সুযোগ পাওয়া উচিত।”
ভক্তদের উদ্দেশ্যেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন কিংবদন্তী মেসি। তিনি লেখেন, “গত ২০ বছর ধরে আপনারা যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। মাঠের ভেতর থেকে আপনাদের সেই গর্জন বা সমর্থন শোনার বিষয়টি আমি খুব মিস করব। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে সবসময় সমর্থন জানিয়ে যাব—সুসময়ে তো বটেই, দুঃসময়েও আরও বেশি করে।”
নিজের পরিবার, কোচ, সতীর্থ এবং ম্যানেজার সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
চিঠির একদম শেষে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য। ভামোস আর্জেন্টিনা (এগিয়ে চলো আর্জেন্টিনা)!”
লিওনেল মেসির জন্য ভক্তরা স্বাভাবিকভাবেই শোকার্ত।
তাঁরা লিখছেন, “যে মানুষটার জন্য রাত জেগেছি, যে মানুষটার একটা গোলেই পুরো রাতটা আনন্দে কেটেছে, যে মানুষটার পায়ে বল দেখলেই মনে হতো—“এবার কিছু একটা হবেই”—সেই মানুষটার কথা এভাবে ভাবাই যায় না”!
আসলে মেসির ক্যারিয়ার শুধু ট্রফি, গোল কিংবা রেকর্ডের গল্প নয়। এটা হার না মানার গল্প। অসংখ্য ব্যর্থতার পর ফিরে আসার গল্প। আর শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের হয়ে সেই অধরা বিশ্বকাপটা ছুঁয়ে দেখার গল্প। সেই একটা যুগের সমাপ্তি হলো।
