ঢাকা: পোশাক শিল্প ধ্বংস হয়ে গেছে দেশে। যা বাংলাদেশের মেরুদণ্ড ছিলো। কোথাও শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে, কোথাও কারখানা সংকুচিত হচ্ছে, কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, কোথাও অর্ডার কমে গেছে।
তীব্র জ্বালানিসংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় মারাত্মক চাপে পড়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত।
পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে দেশের বেশির ভাগ পোশাক কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতারা।
এবং গত তিন বছরে উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও অর্ডার সংকটে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কর্মসংস্থানের কথা তো আর বলেই লাভ নেই।
বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এইসব তথ্য তুলে ধরে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল।
বিজিএমইএ নেতারা সাফ বলেন, জ্বালানিসংকটের জন্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
তবে যতো যাই হোক, সংকট হোক- সরকার নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে। বলে দিয়েছে বিদ্যুৎ সরহরাহ ঠিক হতে দুই বছর লাগবে। ব্যস! দুই বছর মানুষ হাওয়া খেয়ে থাকবে।
লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে যাচ্ছে, কর্মসংস্থান হারাচ্ছে দেশে! সেই বাস্তবতা কেউ সামনে আনছেনা.!
মেটিকুলাসলি ডিজাইন করে দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে ইনুচ গং।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১.৬৪ শতাংশ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসেও পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বিজিএমইএ নেতারা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শিল্পের সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তৈরি পোশাক খাতের সংকট কাটিয়ে শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাষ্ট্রপতির কাছে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন বিজিএমইএ নেতারা।
গ্যাসসংকট মোকাবেলায় দ্রুত দুটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি মূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং এলএনজি আমদানির পর্যায়ে শুল্ক-কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বল্প সুদের বিশেষ ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
অবকাঠামো ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্থায়ীভাবে অতিরিক্ত কার্গো শেড নির্মাণ এবং বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করে চালুর দাবি জানানো হয়।
